বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে অ-আঞ্চলিক বা বহিরাগত দেশগুলোর কোনো ধরনের সামরিক তৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার দায়িত্বে থাকা ইরানি দলের প্রধান ও দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি ওয়াশিংটনসহ পশ্চিমা শক্তিগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, এই নৌপথটি বিদেশি শক্তির ‘সামরিক প্রদর্শনের মঞ্চ’ নয়।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানান, হরমুজ প্রণালির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব এককভাবে এই অঞ্চলের উপসাগরীয় উপকূলবর্তী দেশগুলোর। এই কৌশলগত জলসীমায় বাইরের কোনো শক্তির উপস্থিতি বা উসকানিমূলক সামরিক তৎপরতা তৈরি হলে, তার সম্ভাব্য সব ধরনের জটিল পরিণতির দায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকেই বহন করতে হবে। ইরান এই অঞ্চলের মূল দায়িত্বশীল পক্ষ হিসেবে যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি রাখছে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচল ব্যবস্থাপনা ও জলপথ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছেছে তেহরান। চীন ও ওমানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে গালিবাফ স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারকের (MoU) ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই নতুন নৌ-ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের ভূমিকা বা হস্তক্ষেপ থাকবে না। এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের সময় উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য উপকূলবর্তী দেশগুলোর মতামত ও সমন্বয়কেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
একই দিনে ইরানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সামরিক প্রস্তুতির বিষয়ে কথা বলেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ ইবন আল-রেজা। তিনি আল মায়াদিনকে জানান, যেকোনো পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের সামান্যতম চেষ্টা করা হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর হাতে মোকাবিলা করা হবে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ ও সমুদ্রসীমায় যেকোনো ধরনের উদ্ভূত পরিস্থিতি বা অনাকাঙ্ক্ষিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালি হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়। ফলে এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে তৈরি হওয়া নতুন এই টানাপোড়েন বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।