ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য ও দেশের বাইরে বসে দল পুনর্গঠনের তৎপরতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনকালীন সময়ে শত শত ছাত্র ও সাধারণ মানুষের হতাহতের ঘটনার পরও তাঁর এই ধরনের বক্তব্যে কোনো আত্মোপলব্ধি বা অনুশোচনা প্রকাশ না পাওয়ায় দেশের সচেতন নাগরিক ও অন্তর্বর্তীকালীন রাজনৈতিক শক্তিগুলো তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বর্তমান নীতিনির্ধারকদের মতে, দেশের বর্তমান শান্ত ও স্থিতিশীল পরিস্থিতিকে ব্যাহত করতে এবং নতুন করে অস্থিতিশীলতা বা নাশকতা তৈরির লক্ষ্যেই সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বিগত বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত ঐতিহাসিক আন্দোলনের সময় যে বিপুল পরিমাণ প্রাণহানি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, তার মূল দায় তৎকালীন সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপরই বর্তায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ দেশের বিভিন্ন আদালতে ইতিমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এমন একটি স্পর্শকাতর সময়ে ভারতের মাটিতে বসে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সচল করার চেষ্টা এবং চলতি বছরেই দেশে ফেরার বার্তাকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক মহলের উস্কানিমূলক পরিকল্পনা হিসেবে দেখছেন মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মীরা। ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অন্যান্য মাধ্যমে দেশের ভেতরে থাকা বিচ্ছিন্ন কর্মীদের ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করা হচ্ছে, যা কঠোর হস্তে দমন করা প্রয়োজন।
আইনজীবীরা ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের বিদ্যমান অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, গুরুতর ফৌজদারি ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত যেকোনো ব্যক্তিকে ফিরিয়ে আনার আইনি অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে। দেশের মাটিতে চলমান বিচার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে এবং শত শত শহীদের পরিবারের বিচার সুনিশ্চিত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত কূটনৈতিক বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা সময়ের দাবি।
সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও জনগণের জানমালের ক্ষতিসাধন করার যেকোনো অপচেষ্টাকে শক্ত হাতে দমন করার আইনি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রশাসন।