ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারা দেশে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায়। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন প্রণীত আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচারণা বন্ধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ইসির রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫–এর ১৮ ধারায় বলা হয়েছে, ভোটের নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহের আগে প্রচারণা শুরু করা যাবে না এবং ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব প্রচার শেষ করতে হবে। সেই নিয়ম মেনেই আজ সকাল থেকে সারাদেশে মাইকিং, সভা, মিছিলসহ সব ধরনের নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে।
ভোটের সময়সূচি
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে শেরপুর-৩ আসন বাদে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শেরপুর-৩ আসনে ভোট বাতিল
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
অংশগ্রহণকারী দল ও প্রার্থী
এবারের নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। মোট প্রার্থী সংখ্যা ২,০৩৪ জন, যার মধ্যে ২৭৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
প্রধান দলগুলোর প্রার্থী সংখ্যা:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) — সবচেয়ে বেশি প্রার্থী
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ — ২৫৮ জন (হাতপাখা)
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী — ২২৯ জন (দাঁড়িপাল্লা)
জাতীয় পার্টি — ১৯৮ জন (লাঙ্গল)
জাতীয় নাগরিক পার্টি — ৩২ জন (শাপলা কলি)
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জন ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রচার শেষ হওয়ায় এখন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখা, আচরণবিধি প্রতিপালন এবং ভোটারদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে।
দেশবাসীর দৃষ্টি এখন ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের দিকে—যেখানে ব্যালটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে আগামী দিনের জাতীয় সংসদ ও গণভোটের ফলাফল।