আন্দোলনরত শিক্ষকদের কঠোর বার্তা দিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা

দেশ এডিশন | স্টাফ রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ মাস আগে

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চলমান আন্দোলন ও পরীক্ষা বর্জনকে সরকারি কর্মচারী বিধি লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার। তিনি বলেন, পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন। সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)–কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।

উপদেষ্টা বলেন, “মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ আন্দোলনের নামে যা করছেন, তা সরকারি আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। এই লঙ্ঘনের জন্য শাস্তি ভোগ করতে হবে—এ ব্যাপারে সরকার একেবারে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে যেখানে কিছু বিদ্যালয় বার্ষিক বা টেস্ট পরীক্ষা নিয়েছে, অন্যদিকে অনেক স্কুলে পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়েছে—এটি সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত ও অগ্রহণযোগ্য।

নবম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার দাবিকে অন্যায় ও অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করে উপদেষ্টা বলেন, “শিক্ষকরা যখন চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, তখনই জানতেন তাদের গ্রেড দশম। নবম গ্রেডে যাওয়ার দাবি তাদের চাকরির শর্তের মধ্যেই ছিল না।” তিনি আরও জানান, নবম গ্রেডে সাধারণত বিসিএস অ্যাডমিন ক্যাডারের কর্মকর্তারা আসেন; তাই বিষয়টি আন্তঃমন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট এবং এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।

উপদেষ্টা অভিযোগ করেন যে শিক্ষকরা পরীক্ষাকে ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছেন, যা শিক্ষকের দায়িত্ববোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। “শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বন্ধ রেখে দাবি আদায়ে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চরম অনৈতিক,” বলেন তিনি।

তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “শিক্ষকদের আগামীকাল থেকেই পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় সরকারি কর্মচারী বিধি লঙ্ঘনের শাস্তি তাদের অপেক্ষা করছে।”

সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গে শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, বিভিন্ন জেলার প্রশাসকরা জানিয়েছেন—শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পরীক্ষা দিতে আগ্রহী। তবু কিছু শিক্ষক পরীক্ষা নিচ্ছেন না, যা উদ্বেগজনক।

শেষে তিনি বলেন, “পরীক্ষায় কোনো আপস হবে না। শিক্ষকদের দায়িত্ব হলো পরীক্ষা গ্রহণ করা, যাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চাপ কমে।”

error: Content is protected !!