একটি জাতির পথচলায় কিছু নাম কেবল ব্যক্তি হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে একটি আদর্শ বা দর্শনের প্রতীক। আমাদের জাতীয় ইতিহাসের পাতায় ‘হাদি’ এমন একটি নাম, যা ত্যাগ, নিষ্ঠা এবং দূরদর্শী চিন্তার সমার্থক। বর্তমান সময়ে যখন আমরা নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছি, তখন তাঁর মতো ব্যক্তিত্বের আদর্শকে স্মরণ করা কেবল কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন নয়, বরং ভবিষ্যতের সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়ার জন্য অপরিহার্য।
ইতিহাস সাক্ষী দেয়, যারা নিঃস্বার্থভাবে জনকল্যাণে নিজেদের বিলিয়ে দেন, তাঁদের ভুলে যাওয়া মানেই হলো অগ্রগতির পথকে রুদ্ধ করা। হাদির জীবন ও কর্ম আমাদের শেখায় যে, বড় কোনো পরিবর্তনের জন্য কেবল আবেগ যথেষ্ট নয়; তার জন্য প্রয়োজন চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য। যদি আমরা এই মূলবোধগুলোকে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যেতে দিই, তবে নতুন প্রজন্মের মাঝে সেই তেজস্বী ও সৃজনশীল নেতৃত্বের অভাব প্রকট হয়ে উঠবে।
মূল্যবোধের উত্তরাধিকার: হাদির চিন্তাচেতনা আমাদের ন্যায়পরায়ণতা ও সাহসিকতার শিক্ষা দেয়।
নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণ: দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার বা পরিবর্তনের জন্য যে ধরনের আপসহীন মানসিকতা প্রয়োজন, তার উদাহরণ তিনি নিজেই।
ঐতিহাসিক শিক্ষা: ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে একই ভুল বারবার করার আশঙ্কা থাকে। তাঁকে মনে রাখা মানেই সেই ভুলের ঊর্ধ্বে থাকা।
বলা হয়ে থাকে, শিকড়কে ভুলে গিয়ে কোনো বৃক্ষ যেমন মহীরুহ হতে পারে না, তেমনি আদর্শিক পূর্বসূরিদের ভুলে গিয়ে কোনো সমাজ কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে পারে না। শত বছরের ব্যবধানেও যদি আমরা প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও দূরদর্শী মানুষ তৈরি করতে চাই, তবে হাদির মতো ব্যক্তিত্বদের জীবনদর্শনকে আমাদের পাঠ্যসূচি ও মননশীলতায় স্থান দিতে হবে।
বিপ্লব বা পরিবর্তন কেবল রাস্তায় ঘটে না, তা ঘটে মানুষের চিন্তায়। আর সেই চিন্তার খোরাক যোগান হাদির মতো ক্ষণজন্মা মানুষেরা। তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে এবং তাঁদের দেখানো পথে চলেই আমরা একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি।