পবিত্র ঈদুল ফিতর আনন্দ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে এলেও খাদ্যাভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে অনেকেই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, রমজানজুড়ে নিয়মতান্ত্রিক খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত শরীর ঈদের দিনে অতিরিক্ত তেল-চর্বি ও চিনি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণে চাপে পড়ে, যা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার ফলে শরীরের বিপাকতন্ত্রে কিছু পরিবর্তন ঘটে। এ সময় ইনসুলিন সংবেদনশীলতা, গ্যাস্ট্রিক কার্যক্রম এবং শরীরের তরল ভারসাম্যে ভিন্নতা দেখা যায়। ফলে ঈদের দিন হঠাৎ ভারী ও অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করলে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা, বমিভাব ও শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
ঈদের দিন সাধারণত মিষ্টিজাতীয় খাবার দিয়ে দিন শুরু হয় এবং সারাদিনজুড়ে খাওয়া হয় খেজুর, সেমাই, ফিরনি, হালিম, বিরিয়ানি ও কাবাবসহ নানা মুখরোচক খাবার। আত্মীয়স্বজনের বাসায় বেড়াতে গিয়ে এসব খাবার এড়িয়ে চলাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, দিনের শুরুতে ভারী খাবার না খেয়ে পর্যাপ্ত পানি ও হালকা খাবার গ্রহণ করা উচিত, যাতে শরীর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরে আসতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ঈদের দিনেও খাদ্য ও ওষুধ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার ও সাদা ভাত একসঙ্গে গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। তাই জটিল শর্করা, প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণের পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তে শর্করা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, যাদের ডায়াবেটিস নেই, তাদেরও অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একসঙ্গে বেশি তেল-চর্বিযুক্ত ও মিষ্টি খাবার গ্রহণে বদহজম, অ্যাসিডিটি ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। গরম আবহাওয়ায় পর্যাপ্ত পানি পান, রোদ এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সর্বোপরি, ঈদের প্রকৃত আনন্দ নিহিত সুস্থ শরীর ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে। সচেতন ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাসই পারে ঈদের আনন্দকে নিরাপদ ও পরিপূর্ণ করতে।
তথ্যসূত্র: কায়সার আহমদ চৌধুরী, ফার্মাসিস্ট (বি. ফার্ম), রেজিস্ট্রেশন নং: এ-২৪৪৪৭
প্রতিবেদন: দেশ এডিশন প্রতিনিধি