নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বন্দরে সৃষ্ট অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। অফিস সময়ের মধ্যে মিছিল, সমাবেশ বা আন্দোলনে অংশ নিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশাসন বিভাগের পক্ষ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় জানানো হয়, সম্প্রতি অফিস চলাকালে বন্দরের ভেতরে একটি দল হাইকোর্টের রায়কে ঘিরে মিছিল ও দলবদ্ধ কার্যক্রম চালায়। এ সময় আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য এবং সংগঠিত মহড়ার মাধ্যমে কর্মপরিবেশ ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সভা-মিছিল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রকাশ্য অবস্থান গ্রহণ সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধির পরিপন্থী। ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা–১৯৭৯’ এবং ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা–১৯৯১’ অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ড পেশাগত অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যকলাপ চলতে থাকলে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে বন্দর শ্রমিক ও কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে শনিবার ও রোববার বন্দর এলাকায় ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। রোববার একই সময় প্রশাসনিক ও অপারেশনাল—উভয় কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে।
এর আগে বন্দরের কারশেড এলাকা ও আশপাশে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শ্রমিক নেতারা এনসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগকে জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর দাবি করে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
এদিকে, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)’ নেতারা বলেন, দেশীয় সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক একটি টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের যৌক্তিকতা নেই। তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ইঙ্গিত দেন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় বন্দর ভবনের দিকে কালো পতাকা মিছিল করার কর্মসূচি রয়েছে।