যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী Jeffrey Epstein–কে ঘিরে প্রকাশিত বিভিন্ন নথি ও ই-মেইল নিয়ে আবারও অনলাইনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, তার তথাকথিত বৈশ্বিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিক, কূটনীতিক ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিদের নাম উঠে এসেছে।
তবে এসব দাবির বেশিরভাগই এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি, এবং প্রকাশিত নথির সঙ্গে এসব ব্যাখ্যার সরাসরি মিল আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। অনলাইনে প্রচারিত তথ্যে শেখ হাসিনার–র নাম উল্লেখের কথাও বলা হচ্ছে, তবে নথিতে সরাসরি তার নাম ব্যবহার না করে ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেফরি এপস্টেইন ছিলেন নিউইয়র্কভিত্তিক এক ধনী বিনিয়োগকারী, যিনি নাবালিকাদের যৌন নির্যাতন, মানব পাচার ও যৌন শোষণের একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় অপ্রাপ্তবয়স্ক এক কিশোরীর সঙ্গে যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেও বিতর্কিত এক চুক্তির মাধ্যমে মাত্র ১৩ মাসের তুলনামূলক হালকা সাজা ভোগ করে মুক্তি পান তিনি। পরে জানা যায়, ওই চুক্তির ফলে তিনি আরও গুরুতর অভিযোগ থেকে রেহাই পেয়েছিলেন।
২০১৯ সালে নিউইয়র্কে আবারও নাবালিকাদের যৌন পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা দায়ের করা হয়। এফবিআই ও ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, এপস্টেইন ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সি কিশোরীদের বিভিন্ন দেশে তার বাসভবন ও ব্যক্তিগত বিমানে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন চালাতেন এবং প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে নিজের অপরাধ আড়াল করতেন। ২০১৯ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে এপস্টেইনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সরকারি তদন্তে মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হলেও কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি, নজরদারি ক্যামেরা বিকল থাকা এবং প্রহরীদের দায়িত্বে অবহেলার তথ্য সামনে আসায় তার মৃত্যু নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।
এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েলকে ২০২০ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২১ সালে নাবালিকাদের যৌন পাচারসহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।