কফি শুধু ঝিমিয়ে পড়া মেজাজকে চাঙ্গা করে না, বরং এটি আপনার ওজন কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—বলে জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কফি পান করলে শরীরের মেদ কমে এবং বিপাকক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
ওজন কমানোর মূল রহস্য লুকিয়ে আছে শরীরের বিপাকের হারে। কফিতে থাকা ক্যাফিন ও ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড বিপাকক্রিয়া বাড়ায় এবং খাবার থেকে শর্করার শোষণ কমায়। এতে শরীর অতিরিক্ত চর্বি জমতে দেয় না।
মেদ ভাঙে: কফির ক্যাফিন ফ্যাট টিস্যু থেকে ফ্যাটি অ্যাসিড মুক্ত করে, যা শরীরচর্চার সময় শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ক্ষুধা কমায়: কফি খেলে কিছু সময়ের জন্য ক্ষুধা কমে যায়, ফলে অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়া কমে।
ক্যালোরি বার্ন করে: শরীরচর্চার আগে কফি খেলে দ্রুত ক্যালোরি পোড়ে, যা ওজন কমাতে সহায়ক।
কফিতে চিনি নয়, বরং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস যোগ করুন—এটি বিপাকের হার আরও বাড়াবে।
চাইলে কফিতে খাঁটি ডার্ক চকলেট মিশিয়ে নিতে পারেন, যা শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বাড়িয়ে চর্বি ঝরাতে সাহায্য করে।
ওজন কমানোর কার্যকারিতা বাড়াতে শরীরচর্চার আগে কফি পান করা সবচেয়ে উপযোগী।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, কফি খেয়ে মেদ ঝরানো কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। সময়ের সঙ্গে শরীর কফির প্রভাবের সঙ্গে মানিয়ে নেয়, ফলে কার্যকারিতা কমে যায়। এজন্য একটানা দুই সপ্তাহ কফি খাওয়ার পর দুই সপ্তাহ বিরতি নেওয়া যেতে পারে।
গবেষণায় আরও জানা গেছে, অতিরিক্ত স্থূল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কফির প্রভাব কিছুটা ধীর। যারা খুব বেশি মোটা নন, তাদের ওজন তুলনামূলক দ্রুত ঝরে—প্রায় ২৯ শতাংশ পর্যন্ত।
প্রাথমিকভাবে ওজন কমানোর অনুপ্রেরণা হিসেবে কফি ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধুমাত্র কফির উপর নির্ভর না করে, পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়ামও জরুরি। কারণ, কফি হতে পারে শুরু—কিন্তু স্থায়ী ফল পেতে চাই জীবনযাপনে পরিবর্তন।
সূত্র: দেশ এডিশন স্বাস্থ্য ডেস্ক