কল্যাণ ট্রাস্টের অডিটে চাঞ্চল্যকর তথ্য: শিক্ষকদের জমানো কোটি কোটি টাকার খাতা অদৃশ্য

দেশ এডিশন রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

দেশ এডিশন রিপোর্ট :

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে নিয়মিতভাবে কেটে নেওয়া কল্যাণ ট্রাস্টের তহবিলের হাজার হাজার কোটি টাকার হিসাব নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ট্রাস্টটি। সাম্প্রতিক অডিট প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিপুল পরিমাণ অর্থ অনিয়ম ও আত্মসাতের মাধ্যমে গায়েব হয়েছে—যার সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কল্যাণ ট্রাস্টের দীর্ঘদিনের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু, যিনি শিক্ষক সংগঠনের প্রভাবশালী নেতা হিসেবেও পরিচিত, গত ৫ আগস্টের পর থেকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কল্যাণ ট্রাস্টে সংঘটিত আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে ট্রাস্টের সাবেক মহাপরিচালকসহ কয়েকজন কর্মকর্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও সম্পদ বিবরণী জব্দ করা হয়েছে। তহবিলের একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে—এমন তথ্যও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত বলে সূত্র জানিয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাস্টের সদস্য কাওছার শেখ বর্তমানে অর্থ আত্মসাত মামলায় কারাগারে রয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ–এর সময়কালের কিছু লেনদেন নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে অর্থ বিনিয়োগের তথ্যও পেয়েছে তদন্তকারীরা।

এদিকে, বর্তমান মন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে কল্যাণ ট্রাস্টের একটি অংশ পরিচালিত হয়েছে—এমন অভিযোগে দুদক সূত্র অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এর মধ্যে কিছু ব্যক্তি গ্রেফতার হলেও, ট্রাস্টের মুখ্য পরিচালক হিসেবে পরিচিত অধ্যক্ষ শাহজাহান সাজুকে আর পাওয়া যাচ্ছে না।

শিক্ষকদের দাবি, “যাদের বেতনের ঘামে কল্যাণ ট্রাস্টের তহবিল গঠিত, সেই অর্থ যদি দুর্নীতির জালে হারিয়ে যায়, তবে এর দায় কার?”

একজন কলেজ শিক্ষক বলেন,

“আমাদের বেতন থেকে প্রতি মাসে টাকা কেটে নেওয়া হতো কল্যাণের নামে। এখন শুনছি, সেই টাকা লুট হয়ে গেছে। কিন্তু আজও কোনো মামলা হয়নি, সাজুর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

অভিযোগ রয়েছে, সাজু অতীতে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্যবহার করে নিজেকে আইনের নাগালের বাইরে রেখেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অবস্থান বদলে তিনি নতুন একটি দলের শীর্ষ নেতার ছত্রচ্ছায়ায় রয়েছেন—এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে, যদিও বিষয়টি নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,

“আমরা ট্রাস্টের লেনদেন ও ব্যক্তিগত সম্পদ হিসাব দুই দিকেই অনুসন্ধান করছি। প্রাথমিকভাবে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে, এখন বিস্তারিত অডিট চলছে।”

শিক্ষকদের প্রত্যাশা

দেশব্যাপী বেসরকারি শিক্ষকরা স্বচ্ছ তদন্ত ও দায়ীদের বিচার দাবি করেছেন। তাঁরা বলছেন, “এটি শুধু অর্থ লুট নয়, আমাদের বিশ্বাস ও জীবনের রক্তঘাম চুরির মতো অপরাধ।”

error: Content is protected !!