কাঁধে সংসার, চোখে স্বপ্ন: ভোরে কারখানার পথে নারী শ্রমিক

মোঃ আবু তালহা, সাভার:
প্রকাশ: ১ দিন আগে

ভোর ৬টা। সাভারের বাসস্ট্যান্ড, আশুলিয়ার বাইপাইল বা জিরাবো এলাকা—চারপাশে হাজার হাজার নারীর পদচারণায় মুখরিত পরিবেশ। কারও চোখে ঘুমের রেশ, কারও হাতে টিফিন ক্যারিয়ার, আবার কারও কোলে ঘুমন্ত শিশু। সবাই ছুটছেন কারখানার সাইরেনের টানে। বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এই নারীদের কাছে ‘৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ কেবল একটি তারিখ নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনসংগ্রামের প্রতীক।

সাভারের একটি পোশাক কারখানায় গত ১০ বছর ধরে কাজ করছেন রহিমা বেগম। নারী দিবসে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তিনি বলেন,
“মানুষ বলে আজ আমাদের দিন। কিন্তু আমাদের কাছে কাজই সব। কারখানায় ১০-১২ ঘণ্টা কাজ শেষে বাসায় গিয়ে আবার সংসার সামলাতে হয়। ক্লান্তি লাগে, তবে মাস শেষে নিজের উপার্জিত টাকাটা যখন হাতে পাই, তখন মনে হয় আমি কারও ওপর বোঝা নই।”

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নারীদের অবদান দীর্ঘদিনের। গত কয়েক বছরে পোশাক খাতে কর্মপরিবেশে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও সাভারের অনেক নারী শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে এখনও রয়ে গেছে নানা প্রশ্ন।

২০২৬ সালে এসে সাভারের নারী শ্রমিকরা আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রযুক্তি সচেতন। তাদের হাতে এখন স্মার্টফোন, তারা অনলাইন লেনদেন সম্পর্কে ধারণা রাখেন। অনেক নারী শ্রমিক কাজ শেষে ইউটিউব বা ফেসবুক দেখে নতুন দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করছেন। এতে যেমন আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে তাদের আত্মবিশ্বাস।

সাভারের এই নারীরা কেবল সুঁই-সুতার কারিগর নন; তারা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম শক্তি। তাই আন্তর্জাতিক নারী দিবসে তাদের জন্য কেবল শুভেচ্ছা নয়, প্রয়োজন নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা। তবেই নারী দিবসের প্রকৃত সার্থকতা অর্জিত হবে।

error: Content is protected !!