সিলেট-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির একটি চাঞ্চল্যকর ঘোষণার মাধ্যমে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। তিনি অঙ্গীকার করেছেন, সাধারণ মানুষের ভোটে নির্বাচিত হলে পাড়া-মহল্লার ‘হারিয়ে যাওয়া’ বিচারিক ক্ষমতা তিনি বয়োজ্যেষ্ঠদের (মুরুব্বিদের) হাতে ফিরিয়ে দেবেন।
গত সোম ও মঙ্গলবার একাধিক নির্বাচনী সমাবেশে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বিগত ১৫ বছর ধরে ঐতিহ্যবাহী সালিশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, একসময় মুরুব্বিরা বিরোধ মীমাংসার দায়িত্ব পালন করলেও এখন ‘কম বয়সী হকল’ সেই দায়িত্ব নিয়েছে, যা স্থানীয় বিচারিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে।
তিনি বলেন, “একসময় মুরুব্বি হখলে দেন-দরবার করিয়া দিয়া যাইতা। কিন্তু গত দেড় দশক যাবত মুরুব্বিরা এই কাজ করতে পারছইন না। পাড়া-মহল্লার কম বয়সী হখল এই দায়িত্ব নিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “মুরুব্বিদের সম্মান এবং ছোটদের প্রতি স্নেহ ছিল সিলেটের অতীত ঐতিহ্য। ইনশা আল্লাহ, বিজয়ী হলে এই সামাজিক শৃঙ্খলা ও বিচারিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হবে।”
আঞ্চলিক বিচারিক ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার ঘোষণার পাশাপাশি খন্দকার মুক্তাদির নারী উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি মহানগরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে নারী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে নারীদের মতামত শোনেন এবং নির্বাচিত হলে সিলেটজুড়ে নারী-উন্নয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
এছাড়া, মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বালুচরের নয়াবাজারে গণসংযোগেও উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহসভাপতি মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সলসহ জেলা ও মহানগর কমিটির শীর্ষ নেতারা।
সোমবার রাতে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিকদের মতবিনিময় সভায়ও খন্দকার মুক্তাদির বক্তব্য রাখেন এবং তাঁর অঙ্গীকারকে সিলেটের ‘হারিয়ে যাওয়া মর্যাদাবোধ’ পুনরুদ্ধারের ডাক হিসেবে অভিহিত করা হয়।