বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে “সাংবিধানিক সংকটের দ্বারপ্রান্ত” উল্লেখ করে দ্রুত নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন যুব আন্দোলনের এনডিএম সভাপতি আদনান সানি। তিনি জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আস্থাহীনতার ফলে রাষ্ট্র পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে, যা কাটিয়ে উঠতে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।o
তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ, নির্বাচন ব্যবস্থা ও জনগণের আস্থার সংকট নিরসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্পষ্ট তফসিল এখন আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই। সময়ক্ষেপণ হলে অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে, যা গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
আদনান সানি চারটি প্রধান কারণ তুলে ধরে তফসিল ঘোষণার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন:
১. রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করা
তার মতে, তফসিল ছাড়া কোনো নির্বাচন–রোডম্যাপ স্পষ্ট হয় না। এতে দলগুলো প্রস্তুতি নিতে পারে না এবং দ্বন্দ্ব–সন্দেহ বাড়তে থাকে। নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করলে উত্তেজনা কমে ও রাজনৈতিক পরিবেশ স্বাভাবিক হয়।
২. জনগণের আস্থা পুনর্গঠন
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভোটাধিকার ও নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সময়মতো তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বার্তা যাবে, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে।
৩. অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা
আদনান সানি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগ পরিবেশকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। স্পষ্ট নির্বাচনী সময়সূচি দেশি–বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে।
৪. গণভোটের প্রয়োজনীয়তা
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বা সাংবিধানিক সিদ্ধান্তে জনগণের মতামত নেওয়ার প্রশ্নে তিনি গণভোটকে জরুরি বলে উল্লেখ করেন। এ ধরনের গণভোট পরিচালনার জন্যও পূর্বঘোষিত তফসিল অপরিহার্য বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হলে প্রয়োজনীয় সময় না হারিয়ে দ্রুত তফসিল ঘোষণা করতে হবে। এটি শুধু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নয়, সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনায় আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে।
শেষে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের পথ সিদ্ধান্তহীনতায় নয়, সময়মতো সাহসী পদক্ষেপে এগিয়ে যায়। তাই অবিলম্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা উচিত।”
— দেশ এডিশন