গোনাহ হলে করণীয়: মহানবী (সা.) এর নির্দেশনা মুসলমানদের জন্য আশার আলো মহিমান্বিত বর্ণনা

দেশ এডিশন ইসলামিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

গোনাহ বা পাপ করা মানব জীবনের অংশ, তবে পাপের পর হতাশ না হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এক হাদিসে তিনি পাপের পর তাওবা ও ইস্তিগফারের এমন একটি সহজ ও মহিমান্বিত পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন, যা ইমানদার বান্দার জন্য গভীর আশার বার্তা বয়ে আনে।

হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—

“আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যখন কোনো বান্দা কোনো গুনাহ করার পর উত্তমভাবে অজু করে দাঁড়িয়ে দুই রাকাআত সালাত আদায় করে এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন।”
এরপর নবী (সা.) এ আয়াত তিলাওয়াত করেন—
“আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করে বা নিজের প্রতি জুলুম করে, তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে…” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৩৫)।

এই হাদিসে বোঝানো হয়েছে যে, গোনাহ করার পর হতাশ না হয়ে আন্তরিকভাবে তাওবা করলে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করেন। এখানে “সালাতুত তাওবা” অর্থাৎ তাওবার নামাজের স্পষ্ট প্রমাণও পাওয়া যায়।

হাদিসের শুরুতে হযরত আলী (রা.)-এর সতর্কতা সাহাবায়ে কিরামের (রা.) হাদিস যাচাইয়ের কঠোর মানদণ্ড ও আমানতদারিত্বের উদাহরণ তুলে ধরে। তাঁরা কখনো যাচাই ছাড়া কোনো বাণী গ্রহণ করতেন না—যা ইসলামী জ্ঞানের নির্ভরযোগ্যতা রক্ষার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

বর্তমান সমাজে নানা গুনাহ ও অন্যায়ের মাঝে মানুষ যখন হতাশায় নিমজ্জিত, তখন এই হাদিস নবীন প্রজন্মের জন্য এক আশার আলোকবর্তিকা। এখনো যদি কোনো বান্দা গুনাহ করার পর আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয়ে মহানবী (সা.)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী তাওবার নামাজ আদায় করে, তবে আল্লাহ তাআলা নিশ্চয়ই তাকে ক্ষমা করে দেবেন।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফিক দান করুন।

error: Content is protected !!