সপ্তাহজুড়ে ব্যস্ততা, দুশ্চিন্তা আর ভুলে ভরা জীবনের ভিড়ে আল্লাহ আমাদের জন্য একটি বিশেষ দিন রেখেছেন—জুম্মার দিন। এই দিন শুধু একটি নামাজের দিন নয়; এটি গুনাহ মাফের দরজা খোলা থাকার দিন, দোয়া কবুল হওয়ার দিন, ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগানোর দিন।
পবিত্র আল-কুরআন-এ আল্লাহ তাআলা ডাক দিয়ে বলেন—
“হে মুমিনগণ! জুমার দিনে নামাজের জন্য আহ্বান করা হলে তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত এগিয়ে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো…”
(সূরা আল-জুমু‘আহ, আয়াত ৯)
এ যেন দুনিয়ার কোলাহল থামিয়ে আসমানি ডাকে সাড়া দেওয়ার আহ্বান। ব্যবসা থাকবে, কাজ থাকবে—কিন্তু আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়ার এই সুযোগ বারবার আসে না।
রাসূলুল্লাহ মুহাম্মদ (সা.) জুম্মার দিনকে উম্মতের জন্য বিশেষ রহমতের দিন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এমন একটি সময় এই দিনে লুকিয়ে আছে—যে সময় বান্দা আল্লাহর কাছে যা চাইবে, তা কবুল করা হয়। ভাবুন, কত আশীর্বাদ লুকিয়ে আছে এই একটি দিনের ভেতরে!
জুম্মার জন্য প্রস্তুতি নেওয়াও ইবাদত:
গোসল করে পবিত্র হওয়া
পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরা
সুগন্ধি ব্যবহার করা
আগে আগে মসজিদে যাওয়া
খুতবা নীরবে, মন দিয়ে শোনা
বেশি বেশি দরুদ ও দোয়া করা
এগুলো শুধু নিয়ম নয়—এগুলো আল্লাহর সামনে হাজির হওয়ার সম্মানজনক প্রস্তুতি।
অনেকেই আছেন, যারা কষ্ট লুকিয়ে হাসেন; গুনাহের ভারে ভেঙে পড়েন; দোয়া করতে ভুলে যান। জুম্মার দিন যেন তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বলা—
“ফিরে আসো, আমি ক্ষমা করতে প্রস্তুত।”
খুতবার সময় কথা বলা, মোবাইলে ব্যস্ত থাকা বা আজানের পরও দুনিয়াবি কাজে ডুবে থাকা—এসব আমাদের এই বরকতময় মুহূর্ত থেকে বঞ্চিত করতে পারে।
জুম্মা মানে শুধু সাপ্তাহিক ফরজ নামাজ নয়—এটি আত্মার ধোয়া, হৃদয়ের কান্না, আর নতুনভাবে আল্লাহর পথে হাঁটার প্রতিশ্রুতির দিন।
আজকের জুম্মা হোক ক্ষমা পাওয়ার, দোয়া কবুলের, আর আল্লাহর আরও কাছে যাওয়ার দিন।