টাকাসহ দলীয় নেতাকে আটক করা সেই এসপি সম্পর্কে যা জানাল জামায়াত

প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

ঢাকা থেকে সৈয়দপুরে পৌঁছানোর পর নগদ অর্থসহ একজন দলীয় নেতাকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এস কে জাহিদুল ইসলাম–কে ঘিরেও নানা অভিযোগ ও ব্যাখ্যা সামনে এসেছে।

বুধবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি–এর ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার আমির বেলাল উদ্দিন। সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পুলিশ তাকে আটক করে। জেলা পুলিশ সূত্রের দাবি, তার লাগেজ তল্লাশি করে গণনা শেষে প্রায় ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার ভিডিও ও সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়।

তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বৈধ ব্যবসায়িক প্রয়োজনে নগদ অর্থ বহন করছিলেন এবং ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ শেষে তাকে অর্থ বহনের ছাড়পত্র দেয়। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, কাস্টমসের অনাপত্তির ভিত্তিতেই তিনি ভ্রমণ করেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের (বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন) পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনি সময় বৈধ উৎস প্রদর্শন করা গেলে নগদ অর্থ পরিবহনে নির্দিষ্ট কোনো সর্বোচ্চ সীমা নেই।

জামায়াতের বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, সৈয়দপুর বিমানবন্দরে তাকে “উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্তা” করা হয়েছে এবং এসপি এস কে জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও তোলা হয়। তাদের দাবি, ওই ঘটনার পরই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দলটি এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কিছু গণমাধ্যম ঘটনাটিকে “ভিন্ন খাতে প্রবাহিত” করেছে বলেও তাদের অভিযোগ। জামায়াতের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নীলফামারী জেলার পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম ফ্যাসিবাদের দোসর। তিনি সাবেক ডিবি প্রধান ভারতে পলাতক মনিরুল ইসলামের অন্যতম সহযোগী ছিলেন। তিনি জঙ্গি নাটক সাজিয়ে বিভিন্ন অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা ও দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

অন্যদিকে, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে ওঠায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

error: Content is protected !!