বিপিসি-কাস্টমস তথ্যে ফারাক, তেলের চাপ বাড়ছে

প্রকাশ: ৮ ঘন্টা আগে

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে সরকারি দাবি থাকলেও বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন অবস্থা। বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়া এবং শিল্প উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাবের কারণে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কাঁচামালের ঘাটতির কারণে দেশের একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) কম সক্ষমতায় চলছে এবং নতুন চালান না এলে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের পর উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারিতে কাঁচামাল সংকট

ইআরএল সূত্রে জানা গেছে, বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করা হয়। সে হিসেবে মাসে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টনের বেশি ক্রুড প্রয়োজন হলেও ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝির পর নতুন কোনো চালান আসেনি।

বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত কয়েকটি জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে ১৫ মার্চ থেকে রিফাইনারির উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান মজুত দিয়ে সর্বোচ্চ এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত উৎপাদন চালানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এক কর্মকর্তা জানান, স্বাভাবিকভাবে দৈনিক প্রায় ১৮০–১৯০ টন ক্রুড পরিশোধন সম্ভব হলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ৬৫–৭০ টনে নেমে এসেছে। এভাবে দীর্ঘদিন উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া প্রযুক্তিগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নৌ ও বিদ্যুৎ খাতে প্রভাবের আশঙ্কা

জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দেওয়ায় নৌযান চলাচল, পণ্য পরিবহন ও মৎস্য আহরণেও প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া লাইটার জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা সরবরাহেও সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সরকারি দাবি ও আমদানি তথ্যে অসঙ্গতি

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং অতিরিক্ত কেনাকাটার প্রবণতার কারণেই সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার দাবি করলেও কাস্টমসের আমদানি তথ্য অনুযায়ী গত কয়েক মাসে জ্বালানি তেল আমদানি কমেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী:

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিন বিপণন কোম্পানি মোট প্রায় ৪ লাখ ৩ হাজার টন তেল আমদানি করেছিল
২০২৬ সালে একই সময়ে আমদানি কমে যায় প্রায় ২৪ হাজার টনের বেশি

এছাড়া মার্চ মাসের তুলনামূলক তথ্যেও দেখা যায়, আগের বছরের তুলনায় আমদানি কমেছে প্রায় ৬৫ হাজার টনের বেশি।

বিকল্প উৎস নিয়ে সীমাবদ্ধতা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইস্টার্ন রিফাইনারির বর্তমান ইউনিটগুলো মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ক্রুড তেল পরিশোধনের জন্য তৈরি। ফলে অন্য দেশের তেল পরিশোধনে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে ইআরএল–২ প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন

জ্বালানি তেলের আমদানি কমে যাওয়া এবং রিফাইনারির উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার পরও কীভাবে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে—এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি বলে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে সামনের মাসগুলোতে সংকট আরও প্রকট হতে পারে।

সূত্র: আমার দেশ

error: Content is protected !!