আগামী ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতির উদ্দেশে রেকর্ডকৃত ভাষণের মধ্য দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে এই তফসিল ঘোষণা করবেন। বহুল প্রত্যাশিত এ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি, রোববার।
ইসি সূত্র জানায়, রোববার কমিশনের বৈঠকে তফসিলসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে প্রথা অনুযায়ী কমিশন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে আগামী ১০ ডিসেম্বর। এছাড়া ৯ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে সিইসি ও কমিশনাররা।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, তফসিল ঘোষণার জন্য সিইসির ভাষণের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। ভাষণে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, জনগণের ভোটাধিকার এবং নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলসহ সবার কাছে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা কামনা করা হবে।
খসড়া অনুযায়ী:
তফসিল ঘোষণা: ১১ ডিসেম্বর
মনোনয়নপত্র জমা: ২৫ ডিসেম্বর
যাচাই-বাছাই: ২৬–৩০ ডিসেম্বর
আপিল: ৩১ ডিসেম্বর–৪ জানুয়ারি
আপিল নিষ্পত্তি: ৫–১০ জানুয়ারি
প্রার্থিতা প্রত্যাহার: ১১–১২ জানুয়ারি
প্রতীক বরাদ্দ: ১৩ জানুয়ারি
ভোটগ্রহণ: ৮ ফেব্রুয়ারি
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য আইন সংশোধনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসি। দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবার ভোটগ্রহণ সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে—সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
এবারই প্রথম প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের সুযোগ যুক্ত হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রবাসীদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি।
শুরুতে ১০ লাখ ব্যালট ছাপানোর পরিকল্পনা থাকলেও প্রবাসী নিবন্ধন প্রত্যাশিত না হওয়ায় সেটি কমিয়ে ৫ লাখ করা হতে পারে।
২০২৫ সালের আসন্ন নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন ভোটার অংশ নেবেন। তাদের জন্য ৪২,৭৬৬টি ভোটকেন্দ্র এবং ২,৪৫,১৯৫টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত থাকবে।
ভোটের গুরুত্ব ও জনগণের ক্ষমতার কথা
অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচনি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের প্রতি সহযোগিতা চাওয়া
ভোটারদের উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে কেন্দ্রে আসার আহ্বান
জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরা
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সিইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘোষণার দিন ও সময় নিশ্চিত করা হবে।”
১১ ডিসেম্বর সিইসির ভাষণ সম্প্রচারের মধ্য দিয়ে শুরু হবে নির্বাচনি আনুষ্ঠানিকতা—এটাই এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতির মূল ধাপ।