শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার সামনে দায়িত্ব পালনরত দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার নাম সামনে এসেছে। শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আহত সাংবাদিকরা হলেন— দৈনিক নয়া দিগন্তের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রাসেল শিকদার এবং এশিয়ান টেলিভিশনের স্থানীয় প্রতিনিধি রুহুল আমীন জুয়েল। ঘটনার পর তাদের উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের ভাষ্যমতে, শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশের একটি অভিযানের অংশ হিসেবে ভেদরগঞ্জ উপজেলার উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের এক রাজনৈতিক নেতাকে আটক করা হয়। পরে ওই ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার দাবিতে সখিপুর থানায় যান স্থানীয় বিএনপির নেতা মাজহারুল ইসলাম সরদার এবং তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন সহযোগী।
থানার ভেতরে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে তথ্য ও চিত্র সংগ্রহ করেন। অভিযোগ রয়েছে, আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ও তার সহযোগীরা সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে যান। একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
আহত সাংবাদিক রাসেল শিকদার বলেন, থানার মতো একটি জায়গায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
অন্যদিকে রুহুল আমীন জুয়েল বলেন, তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন। হঠাৎ হামলার শিকার হয়ে তিনি আহত হন। থানার সামনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা না থাকলে কোথায় নিরাপদ থাকা যাবে— এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছেন জেলা পর্যায়ের সাংবাদিক নেতারা। শরীয়তপুর ইলেকট্রনিক জার্নালিস্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের এক নেতা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মাজহারুল ইসলাম সরদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি হামলার অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান কিরণ বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি নিন্দা প্রকাশ করেন।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দীন জানান, আটক ব্যক্তিকে ছাড়ানোর বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।