দলবদলের রাজনীতিতে মনজুর আলম: আদর্শ নাকি সুবিধাবাদ—প্রশ্ন চট্টগ্রামের রাজনীতিতে

স্টাফ রিপোর্টার | দেশ এডিশন
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

এম মনজুর আলম–কে ঘিরে ফের জোরালো সমালোচনা শুরু হয়েছে।  রাজনৈতিক জীবনে তার একাধিকবার অবস্থান পরিবর্তনের ঘটনাকে ঘিরে  “নীতির রাজনীতি নাকি সুযোগের রাজনীতি” — এমন প্রশ্ন উঠেছে।

রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, শুরুতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ২০১০ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি হঠাৎ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–তে যোগ দেন এবং দলটির সমর্থনে মেয়র নির্বাচিত হন। পাঁচ বছর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিএনপির ঘনিষ্ঠ মহলে প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেন এবং দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া–র উপদেষ্টা হিসেবেও ভূমিকা রাখেন।

তবে পরবর্তী নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তিনি হঠাৎ রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। সমালোচকদের অভিযোগ, ওই সময় থেকেই তিনি আবার আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ বলয়ে সক্রিয় হন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–কে প্রকাশ্যে প্রশংসা করতে দেখা যায়। যদিও তিনি নিজে দাবি করেন, কোনো দলে আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় যোগ দেননি।

আরও বিতর্ক তৈরি হয় ২০২৪ সালের নির্বাচনী সময়ে। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ভাষ্য, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে ক্ষমতাসীন বলয়ের অবস্থানকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছিলেন—যা নিয়ে বিরোধী মহলে তীব্র সমালোচনা রয়েছে। এছাড়া একটি স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তনের ঘটনাকেও অনেকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে আবার তাকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরী–র পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা গেছে। এতে নতুন করে গুঞ্জন ছড়ায়—তিনি কি আবার বিএনপিতে ফিরছেন? তবে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির এক নেতা জানান, তিনি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলেও দলে যোগদানের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা সম্ভাবনা এখনো নেই।

মনজুর আলম নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছেন, তিনি নিজেকে রাজনীতিবিদের পাশাপাশি সমাজসেবক মনে করেন। অতীতে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, কৃতজ্ঞতার জায়গা থেকে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক ধারার পক্ষে কাজ করছেন। তবে ভবিষ্যতে নির্বাচন করা বা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দলে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

চট্টগ্রামের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করে এবং রাজনৈতিক আদর্শের প্রশ্ন তোলে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে এ ধরনের সক্রিয়তা ভোটারদের কাছে কৌশলগত অবস্থান বদল হিসেবেই বেশি প্রতীয়মান হয়।

এখন দেখার বিষয়—এটি কেবল নির্বাচনী সময়ের কৌশল, নাকি সত্যিই নতুন কোনো রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা।

error: Content is protected !!