দীর্ঘ দুই যুগ পর গাজীপুরে আসছেন তারেক রহমান, ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে জনসভা

মোঃ মাহাবুল ইসলাম, গাজীপুর
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ পর গাজীপুরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার আগমনকে ঘিরে জেলাজুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ–উদ্দীপনার আমেজ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে প্রস্তুতিসভা, মিছিল এবং জনসভা সফল করতে ব্যাপক সাংগঠনিক তৎপরতা চলছে।

গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর–২ আসনের বিএনপি প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে গাজীপুর শহরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, “প্রায় ২৪ বছর পর তারেক রহমান গাজীপুরে আসছেন এবং চেয়ারম্যান হিসেবে এটিই হবে তার প্রথম সফর। তার আগমন উপলক্ষে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ বিরাজ করছে এবং নেতাকে বরণে সর্বাত্মক প্রস্তুতি চলছে।”

জনসভা সফল করতে গত রোববার বিকেলে টঙ্গীতে একটি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা হাসান উদ্দিন সরকারের বাসভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন হাসান উদ্দিন সরকার। সভা সঞ্চালনা করেন এম মঞ্জুরুল করিম রনি।

প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সায়েদুল আলম বাবুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটু, বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন সরকার এবং গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী সায়েদুল আলম বাবুল বলেন, ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠের জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, গাজীপুরবাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তিনি জানান, গাজীপুরের জনসভা শেষে তারেক রহমান ময়মনসিংহ বিভাগে আরও কয়েকটি জনসভায় অংশ নেবেন।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি দেশের উন্নয়নের একটি রোডম্যাপ। কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান, বেকার সমস্যা সমাধান এবং মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে গাজীপুরের জনসভায় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। এর আগে তিনি সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে জনসভা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

প্রস্তুতি সভায় জানানো হয়, জনসভাটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে গাজীপুর মহানগর বিএনপিকে সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে পৃথক শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিএনপি ও অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের জেলা, মহানগর ও থানা পর্যায়ের ইউনিটগুলো সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি কার্যক্রম চালাচ্ছে।

বক্তারা বলেন, ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠের সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পারিবারিক স্মৃতি জড়িত। স্বাধীনতার আগে কিছু সময় জিয়া পরিবার মাঠসংলগ্ন একটি সরকারি বাসভবনে বসবাস করতেন। সেই ঐতিহাসিক স্থানে জনসভা আয়োজনকে বিএনপির রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেও তুলে ধরা হয়।

প্রস্তুতি সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাজহারুল আলম, গাজীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মীর হালিমুজ্জামান ননি, মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শহিদুজ্জামান, আহমদ আলী রুশদি, সদর থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এলিস, মহানগর জিয়া পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম মোল্লা, প্রভাষক বশির উদ্দিন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শরাফত হোসেন, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হান্নান মিয়া হান্নু, সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম টুটুল, বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন তালুকদার, মেট্রো সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন, মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব মাহমুদ হাসান রাজু, পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মিলু এবং মেট্রো সদর থানা যুবদলের আহ্বায়ক নাজমুল খন্দকার সুমনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

error: Content is protected !!