দুই লাখ টাকার পর প্রতি তিন মাসে তোলা যাবে এক লাখ

দেশ এডিশন | অর্থনীতি ডেস্ক
প্রকাশ: ২ মাস আগে

একীভূত হওয়া পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বিশেষ স্কিমের খসড়া চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে, নতুন ঘোষিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র মাধ্যমে ধাপে ধাপে গ্রাহকের আমানত ফেরত দেওয়া হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে একজন আমানতকারী সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা এককালীন উত্তোলন করতে পারবেন। এ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে আমানত বীমা তহবিল থেকে পরিশোধ করা হবে। পরবর্তী ধাপে যাদের হিসাবে দুই লাখ টাকার বেশি জমা আছে, তারা প্রতি তিন মাসে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা করে উত্তোলনের সুযোগ পাবেন।

তবে চলতি মাসেই নির্ধারিত দুই লাখ টাকা উত্তোলন বাস্তবায়ন নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ, সদ্য গঠিত ব্যাংকটির ডেটাবেজ, ব্যবস্থাপনা কাঠামো এবং এমডি নিয়োগ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। এতে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবুও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।

কারা কত টাকা তুলতে পারবেন?

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়—

  • দুই লাখ টাকার কম আমানত: স্কিম ঘোষণার পর গ্রাহক সম্পূর্ণ টাকা তুলতে পারবেন।

  • দুই লাখ টাকার বেশি আমানত: তিন মাস পরপর এক লাখ টাকা করে দুই বছর পর্যন্ত উত্তোলন সুবিধা থাকবে।

  • বিশেষ ছাড়: ৬০ বছরের বেশি বয়সী গ্রাহক ও ক্যানসার আক্রান্তদের ক্ষেত্রে উত্তোলন সীমা শিথিল থাকবে; তারা প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা তুলতে পারবেন।

  • একাধিক অ্যাকাউন্ট: এক ব্যাংকে বহু অ্যাকাউন্ট থাকলেও একজন গ্রাহক একটি অ্যাকাউন্ট থেকে সুবিধা পাবেন। তবে পাঁচ ব্যাংকে গ্রাহকের আলাদা অ্যাকাউন্ট থাকলে প্রত্যেকটির জন্য আলাদা সুবিধা থাকবে।

  • ঋণগ্রহীতা: যার ঋণ বকেয়া আছে, তাকে প্রথমে ঋণ সমন্বয় করতে হবে—নয়তো উত্তোলন সুবিধা মিলবে না।

কেন বিশেষ স্কিম?

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কয়েকটি গ্রুপের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল ঋণ তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এতে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক মারাত্মক সংকটে পড়ে। এসব ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

নতুন ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারিত হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা—এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা সরকারি অংশ এবং ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানত বীমা তহবিল থেকে দেওয়া হবে। ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন রাখা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহকের আমানত ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা, আর ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশই খেলাপি।

অমানতকারীদের উদ্বেগ

অনেক আমানতকারী দৈনন্দিন খরচ, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় লেনদেন নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। এক আমানতকারী জানান, “দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। প্রতি মাসে চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন। প্রয়োজনমতো উত্তোলনের সুযোগ না থাকলে আমরা বিপাকে পড়ব।”

নতুন বোর্ডের লক্ষ্য: আস্থা ফিরিয়ে আনা

নতুন ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক সচিব মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। তিনি জানিয়েছেন, সরকারি মালিকানায় ইসলামী ব্যাংক পরিচালনার সিদ্ধান্ত ব্যাংকিং খাতের জন্য ইতিবাচক। তার মতে, “প্রথম কাজ হবে গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধার করা এবং ধাপে ধাপে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।”

error: Content is protected !!