ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় সাইফ আজাদ প্রেম (৩০) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে নারিশা গার্লস স্কুল সংলগ্ন পদ্মা নদীর পাড়ে আইয়ুব আলীর দোকানের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত সাইফ আজাদ প্রেম নারিশা গ্রামের মো. মঞ্জু মোল্লার বড় ছেলে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় বাসিন্দা ও আহতদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার আনুমানিক দুপুর ১টার দিকে সাইফ আজাদ প্রেম তার তিন বন্ধুসহ একটি দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত এক যুবক তাকে ডেকে নদীর পাড়ের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া ১৫-২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও হাতুড়ি দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়।
এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা পিস্তল প্রদর্শন করে তাদের ভয়ভীতি দেখায়, ফলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একই ঘটনায় সাউদ হোসেন (৩০) ও শাকিল আহমেদ (৩১) নামে আরও দুইজনকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে আহত করা হয়।
ঘটনার পরদিনই (২৫ মার্চ) বিকেলে সাইফ আজাদের পরিবার এবং আহত সাউদ হোসেন দোহার থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মদন শাহ জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেখান থেকে একটি ভাঙা হাতুড়ি ও রক্তমাখা কাপড় আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া হামলার ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সাইফ আজাদের পিতা মো. মঞ্জু মোল্লা বলেন, “আমার ছেলে একজন ভদ্র ও মার্জিত মানুষ। হামলাকারীদের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল না। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে থানায় অভিযোগ করেছি। আমি এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
আহত সাইফ আজাদ প্রেম, সাউদ হোসেন ও শাকিল আহমেদ বলেন, হামলাকারীরা পিস্তল দেখিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তারা প্রশাসনের কাছে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
আহতদের দাবি, হামলায় জড়িতদের মধ্যে ইয়াসিন, ইমন, আরিফ, জুম্মান, আহমেদ, জিহাদ, সানি, মিহাদ ও সোলায়মানসহ আরও ১০-১২ জন ছিল, যাদের বেশিরভাগের বাড়ি নারিশা পশ্চিমচর ও খালপাড় এলাকায়।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।