দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি সম্প্রসারণে এনবিআরের তৎপরতা, নতুন দেশ যুক্ত করার পাশাপাশি পুরোনো চুক্তি পর্যালোচনা

ডেস্ক রিপোর্ট | দেশ এডিশন
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (ডিটিএ) সম্প্রসারণ ও হালনাগাদে তৎপরতা জোরদার করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিদেশি বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও সহজ করতে নতুন কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তি করার পাশাপাশি বহু বছর আগে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, ইউরোপের তিনটি দেশ—অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজানের সঙ্গে নতুন করে দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরির সঙ্গে দুই রাউন্ড আলোচনা শেষ হয়েছে এবং চুক্তির পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি রয়েছে। কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশা করা হচ্ছে। আজারবাইজানের সঙ্গে প্রথম রাউন্ড আলোচনা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি উজবেকিস্তান ও নাইজেরিয়ার সঙ্গে আলোচনা শুরুর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত একটি দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি চূড়ান্ত করতে তিন থেকে চার রাউন্ড আলোচনা প্রয়োজন হয় এবং এতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ফলে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা কঠিন।

এদিকে, সময়োপযোগী করতে পুরোনো চুক্তিগুলোও পর্যালোচনায় নেওয়া হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ধরনে পরিবর্তন, ডিজিটালাইজেশন, ই-কমার্স, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে চুক্তিগুলো হালনাগাদ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর অংশ হিসেবে সিঙ্গাপুর ও পাকিস্তানের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে এবং তৃতীয় সপ্তাহে পাকিস্তানের সঙ্গে প্রথম রাউন্ড বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আগামী জুনে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পর্যালোচনা আলোচনা শুরু হতে পারে।

এনবিআর সূত্রে আরও জানা গেছে, কেনিয়ার সঙ্গে দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। উভয় দেশই মূল বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে প্রতিনিধিদের সফরসূচি চূড়ান্ত না হওয়ায় চুক্তি স্বাক্ষর পিছিয়ে গেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সুবিধাজনক সময়ে চুক্তিটি স্বাক্ষর হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে এনবিআর সদস্য (আন্তর্জাতিক কর) মো. লুৎফুল আজীম বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন দেশের সঙ্গে চুক্তি এবং পুরোনো চুক্তির পর্যালোচনার মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে। তিনি জানান, দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি থাকলে একই আয়ের ওপর দুই দেশে কর দেওয়ার ঝুঁকি কমে যায় এবং করের ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টনের সুযোগ তৈরি হয়—যা বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সুবিধা।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, জার্মানি, ভারতসহ মোট ৪৩টি দেশের সঙ্গে দ্বৈত কর পরিহার চুক্তির আওতায় রয়েছে। এসব চুক্তি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

error: Content is protected !!