আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে গিয়ে বিএনপি বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় দলীয় কমিটি।
দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৬১টি আসনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে চারটি আসনে ইতিমধ্যে কয়েকজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বাকি আসনের ক্ষেত্রে দলীয় নির্দেশনা অনুসারে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের চেষ্টা চলবে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। তারপরও যদি কেউ না মানে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আলোচনায় দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে শাস্তি হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
একাধিক নির্বাচনী এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীর নাম প্রকাশ:
সিলেট-৫: মামুনুর রশিদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
পটুয়াখালী-৩: হাসান মামুন
ঢাকা-১২: সাইফুল আলম নিরব
রাজশাহী, জামালপুর, সুনামগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, মৌলভীবাজার, শেরপুর, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, বরিশাল, নীলফামারী, নাটোর, নড়াইল, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, ঝালকাঠি, চুয়াডাঙ্গা, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, গাইবান্ধা, কুষ্টিয়া ও কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন আসনে বিএনপির বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, “যুগপত আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা করে কিছু আসন ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু এই আসনগুলো আমাদের জেতা আসন। যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি আসনে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করা হবে। এরপরও না মানলে বহিষ্কারসহ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে দলের প্রতিটি আসনে ‘ধানের শীষ’ বিজয় নিশ্চিত করতে দল ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের কোনো ছাড় থাকবে না।