পূর্ণসেবায় শান্তিপূর্ণভাবে শেষ লালন স্মরণোৎসব

সাকিব হোসেন | কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ৪ ঘন্টা আগে

দোলপূর্ণিমা তিথিতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে অনুষ্ঠিত ফকির লালন শাহ স্মরণোৎসব পূর্ণসেবার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। অষ্টপ্রহরব্যাপী গুরুকার্য, রাখালসেবা, অধিবাস, বাল্যসেবা ও পূর্ণসেবাসহ নানা রীতি-নীতি পালনের মাধ্যমে সাঙ্গ হয় সাধুসঙ্গ।

সোমবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এ আয়োজন মঙ্গলবার দুপুরে পূর্ণসেবার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। সকালে বাল্যসেবায় পায়েস ও মুড়ি পরিবেশন করা হয়। দুপুরে পূর্ণসেবায় ছিল ভাত, ডাল, সবজি, মাছ ও দই। পরে লালন মতে দীক্ষিতদের নিজ নিজ গুরুরা খেলাফত (শিষ্যত্ব) প্রদান করেন।

প্রতি বছর ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে তিন দিনব্যাপী সাড়ম্বরে এ উৎসব পালিত হলেও এবার রমজান মাসের কারণে আয়োজন সীমিত রাখা হয় একদিনে। ছিল না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ মেলা। ফলে ভিড়ও ছিল তুলনামূলক কম।

আলোচনা সভার মাধ্যমে উৎসবের উদ্বোধন করেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় লালন একাডেমি আয়োজনটি সম্পন্ন করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণে খণ্ড খণ্ড দলে বসে বাউল-সাধুরা পূর্ণসেবার খাবার গ্রহণ করছেন। ওয়ান টাইম প্লেটে পরিবেশন করা হয় সাদা ভাত, মাছ, সবজি, ডাল ও দই। দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল সীমিত।

ঢাকা থেকে আগত ফকির ফিরোজ আলম বলেন, “এবার ভিড় কম থাকায় সাধুসঙ্গ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে।” শহিদুল শাহ জানান, অষ্টপ্রহরব্যাপী গুরুকার্যসহ সব আচার যথাযথভাবে পালিত হয়েছে।

আখড়াবাড়ির ভারপ্রাপ্ত খাদেম মশিউর রহমান জানান, পূর্ণসেবার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে সাধুসঙ্গ। আগামী ১ কার্তিক ফকির লালনের তিরোধান দিবসে আবারও মিলনমেলা বসবে।

কুমারখালীর ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, পুরো আয়োজন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। থানা পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানান কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন।

error: Content is protected !!