প্রায় ৯৭ মিলিয়ন ডলার পাচার: সালমান এফ রহমানসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দিয়েছে সিআইডি

দেশ এডিশন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে প্রায় ৯৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার—বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ শ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

আজ রোববার বেলা সাড়ে তিনটায় সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি (পুলিশ মহাপরিদর্শক) মো. ছিবগাত উল্লাহ।

তদন্তে যা জানা গেছে

সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে—২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান এ এস এফ রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন একাধিক পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার করা হয়।

এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে —
অ্যাপোলো অ্যাপারেলস, অটাম লুপ অ্যাপারেলস, বেক্সটেক্স গার্মেন্টস, কসমোপলিটন অ্যাপারেলস, কোরি অ্যাপারেলস, ইন্টারন্যাশনাল নিটওয়্যার অ্যান্ড অ্যাপারেলস, কাঁচপুর অ্যাপারেলস, মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস, পিয়ারলেস গার্মেন্টস, পিঙ্ক মেকার গার্মেন্টস, স্কাইনেট অ্যাপারেলস, স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস, আরবান ফ্যাশনস এবং উইন্টার স্প্রিন্ট গার্মেন্টস লিমিটেড।

এসব প্রতিষ্ঠান জনতা ব্যাংক পিএলসির মতিঝিল শাখা থেকে এলসি খুলে রপ্তানির নামে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের হিসাব দেখালেও, সেই অর্থ দেশে ফেরত আনা হয়নি। বরং রপ্তানির অর্থ চলে গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক “আর আর গ্লোবাল ট্রেডিং” নামের প্রতিষ্ঠানে, যার মালিকানা রয়েছে সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও এ এস এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শাহরিয়ার রহমানের নামে।

মামলা ও অভিযোগপত্র

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মতিঝিল থানায় সিআইডি বাদী হয়ে ১৭টি মানি লন্ডারিং মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে ২৮ ব্যক্তি ও ১৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে কারাগারে থাকা সালমান এফ রহমানকে মামলাগুলোতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই মামলায় লুপ অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াসিউর রহমানকে গত জুলাইয়ে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

সম্পদ ক্রোক ও নিষেধাজ্ঞা

আদালতের নির্দেশে আসামিদের প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

ঢাকার দোহার উপজেলায় প্রায় দুই হাজার শতক জমি ও স্থাপনা,

গুলশানের “দ্য এনভয় বিল্ডিং”-এর একটি ফ্ল্যাট,

গুলশান-২-এর ৬৮/৪ নম্বর রাস্তায় ৩১ নম্বর প্লটের একটি ট্রিপ্লেক্স ফ্ল্যাট।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে এবং আসামিদের বিদেশগমনেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সিআইডির বক্তব্য

সিআইডি জানায়, “ট্রেড–বেজড মানি লন্ডারিং একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। তবুও রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ রক্ষায় আমরা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করেছি এবং অর্থ পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছি। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

error: Content is protected !!