বন্দরে বিদেশি অপারেটর নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কা ‘ভ্রান্ত ধারণা’: বিডা চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি অপারেটর নিয়ে বিরোধীদের তোলা ‘নিরাপত্তা শঙ্কা’কে ভ্রান্ত ধারণা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ হিসেবে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। বুধবার (২৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিশ্লেষণধর্মী পোস্টে তিনি বলেন, বন্দর পরিচালনায় সাম্প্রতিক শুদ্ধি অভিযানের প্রেক্ষাপটে কিছু ‘ভাসা ভাসা’ ও ‘অযৌক্তিক’ যুক্তি উঠছে, কিন্তু সেগুলোর কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।

বিডা চেয়ারম্যান লেখেন, বহু বছর ধরে বন্দরে একটি অস্বচ্ছ পরিবেশ চলমান ছিল। ছোটবেলায় শোনা ‘বন্দরে চেয়ার-টেবিলও ঘুষ খায়’—এমন সংস্কৃতির মধ্যেই বন্দরের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় এখন যে ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনা দেখা যাচ্ছে, তা একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে ইতিবাচক।

তিনি দাবি করেন, অতীতে এ ধরনের সংস্কার উদ্যোগ নিলে “ইন্টারনেট নিজে নিজেই বন্ধ হয়ে যেত”, কিন্তু এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অবস্থান পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে। বিরোধীদের ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ ও ‘সার্বভৌমত্ব’ সংক্রান্ত শঙ্কাকে তিনি ‘সবচেয়ে হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেন। তার মতে, এসব উদ্বেগের সঙ্গে বাস্তবতার কোনও মিল নেই।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা কাঠামোর উদাহরণ টেনে আশিক চৌধুরী বলেন, প্রতিটি জাহাজের কনটেইনার তথ্য, বিল অব লেডিংসহ সব নথি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। খালাসের সময় কাস্টমস, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডের কঠোর তদারকি বহু বছর ধরেই চলছে। বিদেশি অপারেটর যুক্ত হলেও এই নিরাপত্তা-বলয় পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও জানান, বিদেশি কর্মী যুক্ত হলে তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই থেকে শুরু করে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স—সবই দেশীয় গোয়েন্দা সংস্থার অনুমোদনক্রমে সম্পন্ন করা হবে। টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা লোকালাইজেশন এবং অ্যাক্সেস কন্ট্রোল সরকারের নির্ধারিত মানদণ্ডেই পরিচালিত হবে।

দেশে বিদেশি বিনিয়োগকে ‘নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি’ হিসেবে দেখাকে তিনি আত্মভ্রম বলে উল্লেখ করেন। আশিক চৌধুরীর দাবি, বিশ্বের বহু দেশের বন্দরই বিদেশি অপারেটর দিয়ে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে সামান্য বিদেশি উপস্থিতিতেই অতিরিক্ত সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়া স্বাভাবিক নয়। বরং বন্ধুপ্রতিম দেশের বিনিয়োগ থাকলে তারা নিজেদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থেই অবকাঠামোকে শক্তিশালী রাখতে আগ্রহী হয়।

পোস্টের শেষে তিনি বিষয়টি আরও পরিষ্কার করতে একটি ইনফোগ্রাফিকও শেয়ার করেন এবং দেশপ্রেমের নামে অযৌক্তিক আতঙ্ক না ছড়ানোর আহ্বান জানান।

error: Content is protected !!