বাল্যবিয়েতে এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ: উদ্বেগ বাড়াচ্ছে কিশোরী মাতৃত্বের হার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

এশিয়া মহাদেশে বাল্যবিয়ের হার নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান সবচেয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ৫১ দশমিক ৪ শতাংশের বিয়ে হয় ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই।

এর চেয়েও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই নারীদের মধ্যে প্রায় ২৪ শতাংশ ১৮ বছর হওয়ার আগেই সন্তান জন্ম দেন। এছাড়া, মাত্র ৪৭ শতাংশ নারী নিজেদের প্রজনন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি নারীর স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক অবস্থান—সব কিছুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তারা বলেন, বাল্যবিয়ে শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম দারিদ্র্য ও বৈষম্যকে স্থায়ী করে তোলে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, কিশোরী মেয়েদের শিক্ষায় বিনিয়োগ, সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর নীতি পরিবর্তনই বাল্যবিয়ের হার কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

যদিও বাংলাদেশে বাল্যবিয়ে রোধে আইন ও নীতিমালা বিদ্যমান, তবুও এর বাস্তব প্রয়োগ এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। সামাজিক কুসংস্কার, দারিদ্র্য ও নিরাপত্তাহীনতা অনেক পরিবারকে এখনো মেয়েদের অল্প বয়সেই বিয়ে দিতে বাধ্য করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিক্ষার প্রসার, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমেই এই দীর্ঘদিনের সামাজিক সমস্যাটি মোকাবিলা করা সম্ভব।

“একজন কিশোরীর হাতে যদি শিক্ষা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকে, তাহলে সে শুধু নিজের নয়, গোটা সমাজের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।” — মন্তব্য এক সমাজবিজ্ঞানীর।

error: Content is protected !!