গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনা করেছেন এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। তিনি মনে করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
শুক্রবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে অনুমোদন পাবে কি না—এই বিষয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ডা. জারা উল্লেখ করেন, সরকারের যুক্তি অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত বা গ্রেপ্তারের আগে সরকারি অনুমতির প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, যে বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে যদি একই সরকারের অনুমতি নিতে হয়, তাহলে নিরপেক্ষ বিচার কতটা সম্ভব হবে—তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
তিনি আরও বলেন, অতীতেও এ ধরনের প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেক গুমের শিকার পরিবারের বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু যদি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অতিরিক্ত অনুমতির বাধ্যবাধকতা থাকে, তাহলে জবাবদিহিতার প্রশ্নে রাষ্ট্র নিজেই বিতর্কের মুখে পড়ে।
তিনি মন্তব্য করেন, আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান হওয়া উচিত। আইন যদি নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ না হয়, তাহলে তা জনগণের আস্থাকে দুর্বল করে এবং ক্ষমতাসীনদের সুরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।