বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ: কিছু আসনে আসছে প্রার্থী পরিবর্তন

দেশ এডিশন | রাজনৈতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি দেশব্যাপী প্রার্থিতার চূড়ান্ত তালিকা তৈরির শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ২৩৭ আসনে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলেও এখনো ৬৪ আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন বাকি। দলীয় সূত্র বলছে, নভেম্বর মাসের মধ্যেই সব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

মিত্রদের জন্য কিছু আসন, কিছুতে তীব্র প্রতিযোগিতা

জানা গেছে, অবশিষ্ট ৬৪ আসনের কিছু মিত্র রাজনৈতিক দল ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের জন্য রাখা হচ্ছে। এছাড়া কয়েকটি আসনে একাধিক হেভিওয়েট মনোনয়নপ্রত্যাশীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকায় চূড়ান্ত তালিকা করতে সময় লাগছে। তফসিল ঘোষণার আগেই সমঝোতা ও সব প্রক্রিয়া শেষ করতে চায় বিএনপি।

দলটির নীতিনির্ধারকদের মতে, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই নির্বাচন সম্পন্ন হোক—এটাই বিএনপির প্রত্যাশা। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সর্বশেষ বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে তারা মনে করছেন, কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা ছাড়া নির্বাচন সম্পন্ন করা জরুরি।

যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের উদ্বেগ

যুগপৎ আন্দোলনকারী দলগুলো অভিযোগ করেছে যে, বিএনপি নিজ দলের প্রার্থীদের মাঠে নামালেও জোট প্রার্থীদের এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। এতে তাদের নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিএলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান,
“বিএনপি আমাদের মৌখিকভাবে সবুজ সংকেত দিলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়ায় প্রতিনিয়ত বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ জরুরি।”

গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতা সাইফুল হক অভিযোগ করে বলেন,
“শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতায় বিএনপি ধীরগতির। এতে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, যা রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।”

তিনি সতর্ক করে জানান, সমঝোতা না হলে মঞ্চকে বিকল্প ভাবনায় যেতে হতে পারে।

বিএনপির ব্যাখ্যা: সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন,
“চলতি মাসের মধ্যেই মনোনয়নপ্রক্রিয়া শেষ হবে। শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত। সিদ্ধান্ত হলে তা উভয় পক্ষই ঘোষণা করবে।”

তিনি আরও জানান, আরপিও সংশোধন না হলে নিবন্ধিত শরিক দলগুলোকে নিজেদের প্রতীকেই নির্বাচন করতে হবে।

বিরোধপূর্ণ আসনে পুনর্মূল্যায়ন

প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের পর প্রায় ২৩ আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের বিক্ষোভ হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে বিভাগীয় ও স্থানীয় নেতাদের দায়িত্ব দিয়েছে বিএনপি।

বিশেষ সূত্র জানায়, বিতর্কিত আসনের মনোনীত প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ের অবস্থান নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে কিছু আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন,
“বিরোধপূর্ণ আসনগুলোতে মনোনীত ও প্রত্যাশীদের মধ্যে সমঝোতা করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যেসব আসনে প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ, সেগুলো খুব দ্রুত চূড়ান্ত করা হবে।”

ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

দলটির শীর্ষ নেতারা আশা করছেন, সব বিরোধ কাটিয়ে সবাই এক হয়ে নির্বাচনে মাঠে নামবেন। তাদের বিশ্বাস, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে।

error: Content is protected !!