চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ও লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে তিন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) এক যৌথ প্রতিবাদ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
বিবৃতিতে নেতারা জানান, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে সুবজ (২৫) নামের এক যুবককে বৃহস্পতিবার ভোরে ৮৬৪ ও ৮৬৫ নম্বর পিলারের মাঝামাঝি স্থানে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ।
এর আগে গত শনিবার (২৯ নভেম্বর) চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে শহিদুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশিকে হত্যা করে বিএসএফ। পরদিন (৩০ নভেম্বর) গভীর রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে আন্তর্জাতিক পিলার ৭৬ ও ৭৭ নম্বরের মধ্যবর্তী স্থানে ভারতের নিমতিতা ক্যাম্পের সদস্যরা ইব্রাহিম রিংকু ও মমিন মিয়াকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে মরদেহ পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়—এমন অভিযোগ উঠেছে।
ছাত্রশিবির নেতারা বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, গুলি ও নির্যাতনের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমের তথ্যানুসারে, এই সময়ে বিএসএফের হাতে অন্তত ৩০৫ জন বাংলাদেশি নিহত এবং ২৮২ জন আহত হয়েছেন। শুধু চলতি বছরের প্রথম ১১ মাসেই ৩১ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে বিএসএফ।
নেতারা বলেন, একটি স্বাধীন দেশের নাগরিকদের এভাবে বিনাবিচারে হত্যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে এক ধরনের অঘোষিত যুদ্ধের শামিল। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সরকার, মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন সামাজিক–রাজনৈতিক সংগঠন সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবি জানালেও ভারত সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
তারা আরও বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতি ভারতের অন্যায্য আচরণ এবং দুই দেশের বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের অন্যতম বড় অন্তরায়। এসব ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা এবং সীমান্ত সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণ করা এখন জরুরি।
বিবৃতিতে ছাত্রশিবির সরকারকে আহ্বান জানায়—সীমান্তে নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ, বিএসএফকে বিচারের মুখোমুখি করা এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতের আশ্রয় নিয়ে সুবিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার।
—দেশ এডিশন