সারা বিশ্বের মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। পবিত্র রমজান মাস শেষে এই উৎসব সাধারণত আনন্দ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে। কিন্তু চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও ব্যক্তিগত শোকের কারণে অনেকের কাছেই এবারের ঈদের আনন্দ কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে।
আমেরিকা ও ইসরাইলি জায়নবাদীরা সব আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে পবিত্র রমজানেই ইরান, লেবানন ও ফিলিস্তিনে মুসলমানদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে। প্রতিবাদহীন সারা বিশ্ব ইসরাইল-আমেরিকার যৌথ আক্রমণে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি দেখেও অনেক সময় নীরব থাকে। হ্যাঁ, দুনিয়ার তথাকথিত দুইশ কোটি মুসলমানও যেন বিভক্ত ও দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
এর আগের রমজানগুলোতেও গাজায় একই ধরনের মানবিক বিপর্যয় চলেছে। খেয়াল করলে দেখা যায়, কয়েক বছর ধরেই রমজান এলেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং সাধারণ মানুষের জীবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য নিয়েও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে তিনি ইরানের একটি স্থানে হামলার বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। যদি কোনো মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধান অন্য কোনো ধর্মের মানুষদের নিয়ে এমন মন্তব্য করতেন, তাহলে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কেমন হতো—সেটা সহজেই অনুমান করা যায়।
আজ প্রশ্ন হচ্ছে—মানবাধিকার কি সবার জন্য সমান? আন্তর্জাতিক আইন কি শুধু দুর্বলদের জন্য প্রয়োগ হবে, আর শক্তিশালীরা তার ঊর্ধ্বে থাকবে?
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, মুসলিম বিশ্ব এখনো ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর অবস্থান নিতে পারছে না। অথচ ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে, মজলুমের পাশে থাকতে এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে কথা বলতে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানবিক সচেতনতা, বিশ্বজনমত গড়ে তোলা এবং শান্তি ও ন্যায়ের পক্ষে সোচ্চার হওয়া। কারণ নিরীহ মানুষের জীবন কোনো রাজনীতি বা শক্তির খেলায় বলি হওয়া উচিত নয়।
একই সঙ্গে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা আশা প্রকাশ করেন, একটি স্থিতিশীল পরিবেশে গণমাধ্যমসহ সব প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করতে পারবে।
সবশেষে, সকলের জন্য শান্তি, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে এসেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর—এই প্রত্যাশাই সবার।