সেনা কর্মকর্তাদের বিচারে নতুন অধ্যায়।

দেশ এডিশন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে


মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলায় পলাতকদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ। মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক তিনটি মামলায় সাবেক ও বর্তমান ২৫ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৩২ আসামির বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার দিন ধার্য ছিল।

এর মধ্যে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে টিএফআই-জেআইসি সেলে সংঘটিত গুম-খুন ও জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার পর ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। সেদিন সকালে হেফাজতে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের কড়া নিরাপত্তায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরবর্তীতে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

কারাগারে পাঠানো সেনা কর্মকর্তারা হলেন:
র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (এখন অবসরকালীন ছুটিতে);
র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম, বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম,
এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

এছাড়া যারা এখনও হাজির হননি, তাদের হাজির হওয়ার জন্য দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে এই তিন মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের নামেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গুমের দুটি মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ২০ নভেম্বর এবং গত বছরের ১৮ ও ১৯ জুলাই রামপুরায় সংঘটিত গণহত্যার মামলার শুনানির তারিখ ৫ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম জানান, গ্রেফতার দেখানো ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কোন কারাগারে রাখা হবে তা কারা কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে। আদালতের প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার জন্য সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

error: Content is protected !!