মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জরুরি সেবার আওতাধীন লক্ষাধিক মানুষ। সরকারি নির্দেশনায় সাময়িকভাবে এই সেবা স্থগিত রাখার পর থেকেই সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যারা দৈনন্দিন লেনদেন, চিকিৎসা ব্যয় এবং জরুরি প্রয়োজনে এই মাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল, তাদের সংকট এখন চরমে পৌঁছেছে।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে। বর্তমানে অধিকাংশ রোগী ও তাদের স্বজনরা ওষুধের বিল বা পরীক্ষার ফি পরিশোধের জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ওপর নির্ভর করেন। সেবাটি বন্ধ থাকায় সময়মতো বিল দিতে না পেরে অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে অবস্থানরত এক রোগীর স্বজন বলেন,
“আমার হাতে নগদ টাকা নেই, সব টাকা মোবাইল ওয়ালেটে। এখন ওষুধের দোকানদারও ওষুধ দিচ্ছে না, আবার বিলও দিতে পারছি না। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কথা কি সরকার ভাবছে না?”
যে খাতগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত
জরুরি চিকিৎসা সেবা
হাসপাতালের বিল ও ওষুধ ক্রয়
রেমিট্যান্স প্রবাহ
গ্রামগঞ্জে থাকা স্বজনদের কাছে দ্রুত টাকা পাঠানো
নিত্যপণ্য ক্রয়
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সাথে লেনদেন
অনলাইন টিকিট বুকিং
রাইড শেয়ারিং অ্যাপে পেমেন্ট ব্যবস্থা
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, ক্রেতারা মোবাইল ব্যাংকিং ছাড়া কেনাকাটা করতে পারছেন না, ফলে বিক্রি হঠাৎ কমে গেছে। অনেক দোকানেই বেচাকেনা কার্যত স্থবির।
অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিজিটাল লেনদেননির্ভর দেশে এ ধরনের সেবা বন্ধ হয়ে গেলে শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জরুরি খাতে বিকল্প ব্যবস্থা না রেখে এমন সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ায়।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত সেবা চালু করা এবং জরুরি খাতে বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন — ডিজিটাল বাংলাদেশে হঠাৎ এমন অচলাবস্থা কেন? এখন সবার চোখ সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।