বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধ পান করার অভ্যাস বহুদিনের। অনেকেই বিশ্বাস করেন, এটি ভালো ঘুম ও সুস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে? আসলেই কি রাতে দুধ খাওয়া সবার জন্য ভালো? জেনে নেওয়া যাক—
চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, রাতে দুধ খাওয়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা রয়েছে—
ভালো ঘুমের সহায়ক:
দুধে থাকা ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড মস্তিষ্কে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে। মেলাটোনিনকে বলা হয় “ঘুমের হরমোন”, যা ঘুমের সময়সূচি নিয়ন্ত্রণে রাখে ও ঘুম আনতে সহায়ক।
মানসিক প্রশান্তি দেয়:
গরম দুধ পান শৈশবের আরামদায়ক স্মৃতি ও মানসিক শান্তির সঙ্গে যুক্ত। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করে, ফলে দ্রুত ঘুম আসতে সাহায্য করে।
হাড় মজবুত রাখে:
রাতে দুধ খেলে শরীরে দীর্ঘ সময় ক্যালসিয়ামের সরবরাহ বজায় থাকে, যা হাড় ও দাঁতের জন্য প্রয়োজনীয়।
ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে:
শোবার আগে দুধ পান করলে রাতের বেলা হঠাৎ ক্ষুধা বা ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা কমে যায়।
তবে সবার জন্য এই অভ্যাস সমানভাবে উপকারী নয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি সমস্যা তৈরি করতে পারে—
ল্যাক্টোজ অসহিষ্ণুতা:
যাদের ল্যাক্টোজ হজমে সমস্যা হয়, তাদের জন্য রাতে দুধ খাওয়া গ্যাস, ফোলাভাব বা ডায়রিয়ার কারণ হতে পারে।
হজমের সমস্যা বা এসিড রিফ্লাক্স:
দুধ ভারী পানীয় হওয়ায় শোবার সঙ্গে সঙ্গে খেলে বুক জ্বালা বা অম্বলের সমস্যা বাড়তে পারে।
ওজন বৃদ্ধি:
দুধে ক্যালরি বেশি থাকে। রাতে খাওয়ার পর শারীরিক কাজ না থাকলে অতিরিক্ত ক্যালরি চর্বি হিসেবে জমে ওজন বাড়াতে পারে।
শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা:
যাদের সর্দি, কফ বা হাঁপানির প্রবণতা আছে, তাদের রাতে দুধ এড়িয়ে চলা ভালো। কারণ এটি শ্লেষ্মা বাড়াতে পারে, যদিও এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত।
চিকিৎসকদের মতে, রাতে দুধ খাওয়া সম্পূর্ণ ব্যক্তিভেদে নির্ভরশীল। যাদের হজমে সমস্যা নেই, তারা ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে এক গ্লাস উষ্ণ দুধ খেতে পারেন—এটি ভালো ঘুম, প্রশান্তি ও ক্যালসিয়াম জোগাবে।
তবে যাদের পেটের সমস্যা বা ল্যাক্টোজ অসহিষ্ণুতা আছে, তাদের ক্ষেত্রে রাতে দুধ খাওয়া এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
সূত্র: চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ মতামত ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান গবেষণা।