শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির নামে নলছিটি লঞ্চঘাট

স্টাফ রিপোর্টার │ মাহবুব হাসান
প্রকাশ: ১ মাস আগে

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী লঞ্চঘাটের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি’ নামকরণ করা হয়েছে। সদ্য প্রয়াত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির শৈশব ও বেড়ে ওঠার স্মৃতিবিজড়িত এই লঞ্চঘাটের নতুন নামফলক শুক্রবার (তারিখ) বিকাল সাড়ে ৪টায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।

উদ্বোধনকালে নৌ উপদেষ্টা শহীদ হাদির বোন মাসুমা হাদিসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রফিকুল করিম, ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হাবিবসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জন্মস্থান নলছিটি। তাঁর শৈশব, বেড়ে ওঠা ও জীবনসংগ্রামের সঙ্গে এই লঞ্চঘাট এলাকার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সে কারণেই নলছিটি লঞ্চ টার্মিনালের নাম পরিবর্তন করে তাঁর নামে নামকরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “হাদি এখন শুধু বাংলাদেশের সন্তান নয়, তাঁর নাম দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি একটি পরিচ্ছন্ন রাজনীতির স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্নের জন্যই তাঁকে জীবন দিতে হয়েছে। জুলাই আন্দোলনসহ দেশের বিভিন্ন গণআন্দোলনে নিহত সব শহীদের হত্যার বিচার না হলে তাঁদের আত্মা শান্তি পাবে না।”

হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে নৌ উপদেষ্টা বলেন, সরকার এ ব্যাপারে অত্যন্ত সিরিয়াস। দ্রুতই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত খুনি ও পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নলছিটি লঞ্চঘাট ছিল ওসমান হাদির জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানেই তাঁর জন্ম, এখানেই কেটেছে শৈশব ও কৈশোরের অসংখ্য স্মৃতি। লঞ্চঘাট থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে তাঁর পৈতৃক বাড়ি। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে মানুষের যাতায়াত দেখা ও লঞ্চের ভিড়ে সময় কাটানো—এই ঘাটই ছিল তাঁর বেড়ে ওঠার নীরব সাক্ষী। আজ সেই ঘাটেই স্থায়ীভাবে যুক্ত হলো শহীদ হাদির নাম।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শহীদ হাদির স্মরণে এমন একটি স্থায়ী উদ্যোগ প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। ব্যবসায়ী শাহাদাত আলম বলেন, “হাদিকে ছোটবেলা থেকে এই ঘাটেই দেখেছি। সে এখানকারই ছেলে। তার নামে ঘাটের নামকরণ হওয়ায় আমরা গর্বিত।”

এদিকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্তর্বর্তী সরকারের নৌ উপদেষ্টার কাছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভলানটিয়ার্স অব নলছিটি শহীদ হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুরে শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

পরবর্তীতে তাঁর মরদেহ দেশে এনে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির নিকট তাঁকে দাফন করা হয়।

error: Content is protected !!