শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পালের জামিন বাতিল করেছেন আদালত। বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় সোমবার (২০ অক্টোবর) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান ভূইয়া সময়ের আবেদন শুনানি না হওয়ায় তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন দায়রা আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান, তাঁকে সহায়তা করেন স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট আশরাফুন্নাহার রুবী ও কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক জিয়াউর রহমান।
আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মাহামুদুল হাসান রাকিব, এনসিপি নেতা রাশেদুল হাসান দেওয়ান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা শাহনূর রহমান সায়েম, মোর্শেদ জিতুসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে, জামিন ইস্যুতে বিচারক ও পিপির অপসারণসহ সাত দফা দাবিতে সকাল থেকে আদালত অঙ্গনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মী ও হতাহত পরিবারের সদস্যরা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া ছয়টি মামলায় চন্দন কুমার পাল হাইকোর্ট থেকে এবং সর্বশেষ আরেকটি মামলায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর জেলা দায়রা আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। পরদিন তিনি জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান।
চন্দন কুমার পালের মুক্তির পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। গুঞ্জন ওঠে, তিনি জামিনে মুক্তির পর দেশত্যাগ করেছেন।
এর প্রেক্ষিতে ৬ অক্টোবর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যরা আদালত, পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গেট অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
ওইদিন বিকেলে রাষ্ট্রপক্ষ চন্দন কুমার পালের পাসপোর্ট জব্দ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করে। শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ মো. জহিরুল কবির রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে তাঁর পাসপোর্ট জব্দ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।
📌 সূত্র: আদালত ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহল