শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি কলেজ দেশের সেরা ৮১টি সরকারি কলেজের মধ্যে ৪৯তম স্থানে উঠে এলো। জেলা শহরের এই কলেজের নাম এখন ঢাকা কলেজ, ইডেন, রাজশাহী কলেজের মতো পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে গৌরবের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা তালিকায় ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উঠতে দুটি কঠোর শর্ত ছিল—ছাত্রসংখ্যা ৮,০০০-এর বেশি এবং অনার্সে ১০টির বেশি বিষয়। শেরপুর সরকারি কলেজ এই শর্ত দুটিই পূরণ করেছে: শিক্ষার্থী সংখ্যা ১২,৫০০+, অনার্স বিষয় ১৭টি এবং মাস্টার্স ১২টি।
গত দশ বছরে কলেজের শিক্ষার্থীরা হাই স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় জেলায় সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিংয়ে কলেজের ধারাবাহিক শীর্ষ অবস্থানও এটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
কলেজ ক্যাম্পাসে আনন্দের উৎসব শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা লাল-সবুজ ব্যানার নিয়ে “আমরা এ ক্যাটাগরি” স্লোগানে মুখরিত করেছে পুরো এলাকা। অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল মান্নান বলেন,
“গত ১৫ বছর ধরে আমরা শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষক নিয়োগে কাজ করে গেছি। আজকের এই স্বীকৃতি আমাদের আরও দায়বদ্ধ করেছে। আমাদের লক্ষ্য শীর্ষ ৩০-এর মধ্যে পৌঁছানো।”
এ ক্যাটাগরির সুবিধার অংশ হিসেবে কলেজ পাবে অধ্যক্ষের পদমর্যাদা গ্রেড-৩, নতুন শিক্ষক পদ সৃষ্টি ও দ্রুত নিয়োগ, বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটে অগ্রাধিকার, নতুন ভবন, ডিজিটাল ল্যাব ও অডিটোরিয়াম নির্মাণে বিশেষ বরাদ্দ।
জেলা প্রশাসক মো. জাকির হোসেন বলেন,
“শেরপুরের শিক্ষা এখন পিছিয়ে নেই। এই কলেজ আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের শিক্ষার হাব হয়ে উঠবে।”
যে কলেজের মাঠে একসময় গরু-ছাগল চরতো, আজ সেই কলেজ দেশের সেরা ৮১ সরকারি কলেজের তালিকায় ৪৯তম স্থানে গিয়ে উত্তরবঙ্গের গর্ব হয়ে উঠেছে।