আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে বড় রাজনৈতিক চমক দেখাল জামায়াতে ইসলামী। দীর্ঘ আলোচনা ও জটিলতার পর আন্দোলনরত আট দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও দুটি দল—লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এর মধ্য দিয়ে ১০ দলীয় নির্বাচনি সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে।
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আন্দোলনরত আট দলের উদ্যোগে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ সমঝোতার ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে এলডিপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াত আমির বলেন, “এটি কেবল একটি জোট নয়, এটি জোটের চেয়েও মজবুত একটি নির্বাচনি সমঝোতা। সারা দেশের ৩০০ আসনে আমরা বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আসন নির্ধারণ করেছি। প্রায় সব কাজ শেষ। বাকি বিষয়গুলো মনোনয়ন জমার পরপরই সমাধান করা হবে।”
তিনি আরও জানান, সময় ও সুযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে এনসিপির নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে না পারলেও দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হয়েছে এবং তারা এই সমঝোতায় যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত দলীয়ভাবে নিশ্চিত করেছে।
ঢাকা-২ আসনে নতুন প্রার্থী ঘোষণা
এদিকে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা-২ আসনে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ও রাওয়া ক্লাবের চেয়ারম্যান আবদুল হককে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আন্দোলন থেকে নির্বাচনি সমঝোতা
সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের প্রায় সব ইসলামি দল ও শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। ওই বৈঠকে একক প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তাবে সম্মতি দেন অধিকাংশ দল। এর ধারাবাহিকতায় গত সেপ্টেম্বর থেকে আট দলের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন শুরু হয়।
এই আট দলের মধ্যে রয়েছে—জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। সংস্কার, বিচার, গণভোট, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডসহ নানা দাবিতে এসব দল দেশব্যাপী কর্মসূচি পালন করে ব্যাপক জনসমর্থন পায়। এরই ধারাবাহিকতায় আসন সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তৃণমূল পর্যায় থেকেও জোরালো মতামত উঠে আসে।
আসন বণ্টন নিয়ে আভাস
যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে আসন বণ্টনের সংখ্যা জানানো হয়নি, সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে—জামায়াতে ইসলামী অন্তত ১৯০টি আসনে এবং বাকি ৯টি দল প্রায় ১১০টি আসনে একক প্রার্থী দিতে পারে। এর মধ্যে এনসিপি পেতে পারে প্রায় ৩০টি আসন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩০টির বেশি এবং এলডিপি প্রায় ছয়টি আসনে প্রার্থী দিতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।
সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির বলেন, “জাতি দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। আমরা একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো সবার জন্য সমতল মাঠ নিশ্চিত করা।”
তিনি আরও বলেন, “এ ঐক্য কেবল নির্বাচনের জন্য নয়, এটি দেশ গঠনের ঐক্য। দেশ, জাতি, মানবতা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারীসহ জোটভুক্ত দলের শীর্ষ নেতারা।