সকালে রোজগারের পথে, এখন জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে এক চালক

দেশ এডিশন ডেস্ক:
প্রকাশ: ৭ দিন আগে

খুলনায় যাত্রীবেশে এসে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গুরুতর আহত চালক রনি এখনো জ্ঞান ফেরেননি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে Dhaka Medical College Hospital-এ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হলেও তিনি অচেতন রয়েছেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ফজরের নামাজ শেষে রনি নগরীর খালিশপুর এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে নিজের অটোরিকশা বের করেন। সকালের দিকে এক দুর্বৃত্ত যাত্রী সেজে বড় মির্জাপুর হয়ে মির্জাপুর ক্রসরোড এলাকায় যাওয়ার কথা বলে তার অটোরিকশায় ওঠে। নির্জন এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ ওই যাত্রী হাতুড়ি দিয়ে রনির মাথায় পরপর আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে দুর্বৃত্ত অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা রনিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত Khulna Medical College Hospital-এ নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকরা তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে খুলনা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয় এবং দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বুধবার সকালে তার মাথায় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি।

আহত রনির স্ত্রী মুক্তা জানান, রনি পেশায় অটোরিকশাচালক ও মিস্ত্রি। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। প্রায় এক মাস আগে একটি এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে অটোরিকশাটি কেনেন। সেটিই ছিল পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস। হঠাৎ এই ঘটনায় পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। চিকিৎসা ব্যয় ও সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।

এ ঘটনায় এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে Khulna Metropolitan Police। পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দুর্বৃত্তকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত ছিনতাই বলে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, আহত রনির বাড়ি খালিশপুর এলাকায়। তিনি বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

error: Content is protected !!