সমুদ্রে থাকা ইরানি তেল বাজারে আনতে মার্কিন সিদ্ধান্ত

দেশ এডিশন আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রকাশ: ৬ ঘন্টা আগে

ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে ৩০ দিনের জন্য শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, এই সাময়িক অনুমোদন শুধুমাত্র সেইসব ইরানি তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেগুলো ইতোমধ্যে সমুদ্রপথে পরিবহনের মধ্যে রয়েছে। নতুন কোনো তেল রপ্তানি বা অর্ডারের ক্ষেত্রে এই শিথিলতা প্রযোজ্য হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

এদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, তারা এমন জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে যেগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্থির হয়ে উঠছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এর আগে ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট বলেন, বিশ্ববাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা আংশিক তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তার মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমানে সমুদ্রে থাকা প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করার মতো তাদের কাছে অতিরিক্ত কোনো অপরিশোধিত তেল নেই।

ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামান গোদ্দোসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, বর্তমানে সমুদ্রে ভাসমান কিংবা অন্য কোথাও মজুদ—কোনো অতিরিক্ত তেল ইরানের কাছে নেই যা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্য মূলত সম্ভাব্য ক্রেতাদের আশাবাদী করে তোলার কৌশল হতে পারে।

error: Content is protected !!