সরকারি কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতি নিয়ে নতুন নির্দেশনা

স্টাফ রিপোর্টার | দেশ এডিশন:
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে

সেবাগ্রহণকারী নাগরিকদের সুবিধা, প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতি নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার।

গত ২ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত ওই পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ নিজ অফিস কক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে অবস্থান করতে হবে।

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে যাওয়ার পথে সেমিনার, ওয়ার্কশপ, সিম্পোজিয়াম, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বা ব্যক্তিগত কাজে সম্পৃক্ত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকেন না। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে জনসাধারণ ও অন্যান্য দপ্তরের যোগাযোগ ব্যাহত হয়, যা নাগরিক সেবা প্রদান এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করতে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে অফিস কক্ষে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯’ এবং ‘সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি দাপ্তরিক কর্মসূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট সময়সীমা বিঘ্নিত না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এছাড়া কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কিছু ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না। এর মধ্যে রয়েছে— শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-অনুষদ সদস্য, হাসপাতাল বা জেলখানায় রোস্টার ডিউটিতে থাকা কর্মীরা, সংবাদ ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, জরুরি গ্রাহকসেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

এছাড়াও ভিভিআইপি বা ডিআইপি প্রটোকল প্রদান, আকস্মিক বড় দুর্ঘটনা মোকাবিলা, উন্নয়ন সহযোগী বা কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশগ্রহণ এবং অনুমোদিত সরকারি সফরের ক্ষেত্রেও এই বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে।

error: Content is protected !!