সহজ শর্তে ১৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তা চায় পোশাক খাত

দেশ এডিশন অর্থনীতি ডেস্ক:
প্রকাশ: ৬ ঘন্টা আগে

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে তৈরি পোশাক খাতে তীব্র নগদ সংকট দেখা দিয়েছে। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও উৎসব বোনাস সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করতে সহজ শর্তে ১৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর আহসান এইচ মনসুর-এর সঙ্গে বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও বিজিএমইএ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট শিহাব উদ্দুজা চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, পোশাক খাতে প্রতি মাসে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাবদ সাড়ে ছয় থেকে সাত হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হয়। ঈদের আগে দুই মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধে মোট ১৪ হাজার কোটি টাকা দরকার। তাই সহজ শর্তে ঋণের মাধ্যমে এ সহায়তা দেওয়ার জন্য গভর্নরের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। গভর্নর বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, ২০২৪ সালের আন্দোলন, শ্রমিক অসন্তোষ, নির্বাচন পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ট্যারিফ ইস্যু—সব মিলিয়ে গার্মেন্ট খাত দীর্ঘদিন ধরে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত সাত মাস ধরে রপ্তানিতে ঋণাত্মক প্রবণতা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় দ্রুত প্রণোদনার অর্থ ছাড় ও সফট লোন সুবিধা না পেলে উৎপাদন ও শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে।

বিজিএমইএর পক্ষ থেকে গভর্নরকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রণোদনার আবেদন এখনো লিয়েন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট প্রক্রিয়ায় আটকে আছে। এসব অর্থ দ্রুত ছাড় হলে কারখানাগুলো সাময়িক স্বস্তি পাবে এবং ক্যাশ ফ্লো ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ছাড় করা হয়েছে। তবে বস্ত্র ও পোশাক খাতে এখনো প্রায় পাঁচ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রণোদনা আটকে রয়েছে। এই অর্থ দ্রুত ছাড়ের জোর দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ।

এ ছাড়া সংগঠনটি তিন মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ ১২ মাসে পরিশোধযোগ্য সফট লোন, প্রচলিত ঋণসীমার বাইরে বিশেষ ঋণ সুবিধা, প্যাকিং ক্রেডিট পুনরায় চালু, সুদের হার সাত শতাংশে নামিয়ে আনা এবং প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আকার বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।

বিজিএমইএ নেতারা সতর্ক করে বলেন, শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস সময়মতো পরিশোধ না হলে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। জাতীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং লাখো শ্রমিকের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় সরকারের সময়োপযোগী ও সহানুভূতিশীল সিদ্ধান্ত এখন অত্যন্ত জরুরি।

error: Content is protected !!