সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছি/ন/তা/ই নেপথ্যে ঢাবি ছাত্রদল কর্মী

প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছুরির মুখে চার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক শিক্ষার্থী ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। ঘটনাটির সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রদল কর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও সামনে এসেছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উদ্যানের রমনা পার্ক সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। তারা সবাই স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগীরা হলেন— সৌরভ হাসান, মিফতাহুল শাহরিয়ার নিয়াজ, দিয়ান পারভেজ ও মাহি ইসলাম।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কয়েকজন যুবক তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় জানতে চেয়ে বসতে বাধ্য করে। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটির মধ্যে মারধর শুরু হয়। তাদের মানিব্যাগ, মোবাইল ফোন, বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট তল্লাশি করা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মিফতাহুল শাহরিয়ার নিয়াজ দাবি করেন, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়, এতে তার চোখ ও কপালে জখম হয়। অন্য তিনজনকে গাছের ডাল দিয়ে পায়ে আঘাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে দুইজন থাকলেও পরে ছিনতাইকারীর সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়ায়। তাদের কাছ থেকে মোট ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে— এর মধ্যে ১৫ হাজার টাকা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে এবং ১৫ হাজার টাকা নগদ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, লেনদেনের সূত্র ধরে একটি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে এক যুবককে ক্যাশআউট করতে দেখা যায়, যাকে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল সংশ্লিষ্ট কর্মী আরিফ ফয়সাল হিসেবে শনাক্ত করেছেন বলে দাবি করেন।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত আরিফ ফয়সাল বলেন,

“এক বন্ধু টাকা পাঠাবে বলে নম্বর চেয়েছিল। তখন পুরো বিষয়টি জানতাম না। পরে বিষয়টি জেনে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে সমাধান হয়েছে।”

তবে সরাসরি ছিনতাইয়ে কারা জড়িত ছিল— এমন প্রশ্নে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেননি বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন,

“ছিনতাইকারী যে দলেরই হোক, তাদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন,

“এ বিষয়ে এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় এখনো থানায় মামলা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

error: Content is protected !!