সৌদি–ইসরায়েলি লবিংয়ের পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে বড় উত্তেজনা

দেশ এডিশন আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রকাশ: ৪ ঘন্টা আগে

সৌদি আরব ও ইসরায়েলের কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিক লবিংয়ের পর ইরানে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে পরিচালিত এই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট—ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারজন সূত্রের বরাতে।

সূত্রগুলো জানায়, জনসমক্ষে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত এক মাসে একাধিকবার ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে ফোন করে ইরানে মার্কিন হামলার পক্ষে মত দেন। একই সময়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে ইরানকে ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন হামলার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সম্মিলিত চাপের ফলেই ইরানের নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনীর ওপর বিমান হামলার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। হামলার প্রথম ঘণ্টাতেই ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আগের মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, আগামী এক দশকে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি হামলার আশঙ্কা নেই। তবুও ৯ কোটির বেশি জনসংখ্যার একটি দেশের সরকারকে লক্ষ্য করে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযানে যাওয়াকে সাম্প্রতিক দশকগুলোর মার্কিন নীতির বড় বিচ্যুতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

হামলার সময় এমন এক প্রেক্ষাপট ছিল, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। আলোচনার মধ্যেই রিয়াদ ঘোষণা দেয়—ইরানে হামলার জন্য সৌদি আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। তবে পর্দার আড়ালে সৌদি নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিল বলে সূত্রের দাবি।

হামলার পরপরই ইরান সৌদি আরবের দিকে পাল্টা আঘাত হানে। এর জবাবে রিয়াদ তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘প্রয়োজনীয় ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ’ নেওয়ার আহ্বান জানায়।

এদিকে ট্রাম্প নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ১৯৭৯ সালের ইরান বিপ্লব, তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে জিম্মি সংকট, বৈরুতে মার্কিন ব্যারাকে হামলা এবং ইয়েমেনে ইউএসএস কোল-এ হামলার প্রসঙ্গ টানেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরানি শাসকদের কাছ থেকে আসন্ন হুমকির’ মুখে ছিল।

তবে এই দাবিগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সক্রিয় পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার আগের মূল্যায়নেও ইরানের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির তাৎক্ষণিক অগ্রগতির ইঙ্গিত নেই।

হামলার পর এখন বড় প্রশ্ন—এর পর কী? ট্রাম্প বলছেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ‘দেশপ্রেমিকদের সঙ্গে’ মিলিত হয়ে দেশকে স্থিতিশীলতায় ফিরিয়ে আনবে বলে তিনি আশা করেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত’ লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক অভিযান চলতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে এই অভিযানের পরিণতি কী হবে—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

error: Content is protected !!