স্থানীয় নির্বাচন আগে চেয়েছে জনগণ, তবে মানা হয়নি কমিশনের সুপারিশ

প্রকাশ: ৬ মাস আগে

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, অধিকাংশ মানুষ আগে স্থানীয় নির্বাচন চেয়েছে, কিন্তু সেটি কার্যকর হয়নি। ৪৬ হাজার মানুষের মতামত সংগ্রহের পরও পুরনো ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার কারণে স্থানীয় নির্বাচন আগেই অনুষ্ঠিত হয়নি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ড. মজুমদার বলেন, “৪৬ হাজার মানুষের মতামত অনুযায়ী বেশিরভাগ আগে স্থানীয় নির্বাচন পক্ষে। তবে, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারে প্রস্তাবিত সুপারিশগুলো এখনও গ্রহণ হয়নি।” চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কার্যকর করার জন্য ও নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে ১৬টি ক্ষেত্রে মোট ১৫০টি সুপারিশ প্রকাশ করে।

কমিশনের প্রধান সুপারিশগুলো:

  • স্থানীয় সরকার নির্বাচন: একটি স্থায়ী ‘স্থানীয় সরকার কমিশন’ গঠন ও জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন।

  • নির্বাচন কমিশন গঠন: রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে যোগ্য ও সুনামসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন।

  • নির্বাচন ব্যবস্থা: ইভিএম ব্যবহারের বিধান বাতিল, ভোটারের ৪০% ভোট না পড়লে পুননির্বাচন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন বাতিল ইত্যাদি।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: দলের নিরপেক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার বিধান।

  • প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ: সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ; একই ব্যক্তি একইসঙ্গে দলীয় প্রধান, প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেতা হতে না পারার বিধান।

  • সংসদের উচ্চকক্ষের নির্বাচন: সংখ্যা-অনুপাত ভিত্তিক উচ্চকক্ষ গঠন ও নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ।

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার: মেয়াদ চার মাস, নির্বাচন ও প্রশাসনিক সংস্কারের ব্যবস্থা।

  • রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন: নতুন দলের জন্য শর্ত শিথিল ও নিবন্ধন নবায়নের নিয়মাবলী।

  • প্রবাসী ভোটিং: তথ্য-প্রযুক্তি সহায়তাসূচক পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা গঠন।

ড. মজুমদার বলেন, “এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হলে নির্বাচন ব্যবস্থা হবে অধিক স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক।”

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের সুপারিশগুলো এখনও গ্রহণ করা না হওয়ায় জনগণের আশা পূরণে বিলম্ব হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

error: Content is protected !!