দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে বীরের বেশে মাতৃভূমিতে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল গণসংবর্ধনায় অংশ নিয়ে তিনি দেশ পুনর্গঠনের ডাক দেন। দেশের মাটিতে পা রেখে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
‘শান্তিপূর্ণ দেশ গড়াই লক্ষ্য’
জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান বলেন, “আজ আমাদের সামনে সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এদেশে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—আমরা সবাই মিলেমিশে বাস করি। আমাদের লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।”
ভাষণের শুরুতেই তিনি মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে বলেন, “রাব্বুল আলামিনের অশেষ কৃপায় আমি আজ প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি।”
জনস্রোতে রূপ নিল রাজপথ
এর আগে ভোরবেলায় লন্ডন থেকে সরাসরি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তারেক রহমান। সেখান থেকে বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানাতে লাখো মানুষের ঢল নামে। বিমানবন্দর থেকে কুড়িল-বিশ্বরোড হয়ে ৩০০ ফিট পর্যন্ত পুরো এলাকা জনস্রোতে পরিণত হয়। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে তাকে অভিবাদন জানান।
রাজকীয় সংবর্ধনা
রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় স্থাপিত বিশাল সংবর্ধনা মঞ্চে তারেক রহমান উপস্থিত হলে জনতা উল্লাসে ফেটে পড়ে। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করার নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে দেশত্যাগের পর দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় লন্ডনে অবস্থান করছিলেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তার এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে সারাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে নতুন উদ্দীপনার জোয়ার।