৩০ বছরের মিথ্যা সাজা, মুক্তির পরদিনই মৃত্যু

দেশ এডিশন | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ দিন আগে

দীর্ঘ তিন দশকের আইনি লড়াইয়ের অবসান হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি সেই মুক্তির স্বাদ বেশিদিন ভোগ করতে পারলেন না। ভুয়া ঘুষের অভিযোগে অভিযুক্ত কনস্টেবল বাবুভাই প্রজাপতি আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার একদিন পরই হৃদরোগে মারা গেছেন।

ঘটনাটি গুজরাটের আহমেদাবাদ শহরের। ১৯৯৬ সালে কর্মরত অবস্থায় বাবুভাইয়ের বিরুদ্ধে মাত্র ২০ রুপি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতি দমন আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং ১৯৯৭ সালে চার্জশিট দাখিল করা হয়। কয়েক বছর পর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০০৪ সালে সেশনস কোর্ট তাকে চার বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেন।

এই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি গুজরাট হাইকোর্ট–এ আপিল করেন। কিন্তু তার আপিল নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ ২২ বছর সময় লেগে যায়। অবশেষে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায়ে জানায়, সাক্ষীদের বয়ানে গুরুতর অসঙ্গতি ছিল এবং অভিযোগ প্রমাণে প্রসিকিউশন ব্যর্থ হয়েছে। ফলে বাবুভাই প্রজাপতিকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়।

তার আইনজীবী নীতিন গান্ধী আদালতে যুক্তি দেন, মামলাটি মূলত সন্দেহের ভিত্তিতে দাঁড় করানো হয়েছিল, যার পক্ষে শক্ত প্রমাণ ছিল না।

রায় ঘোষণার পর বাবুভাই আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, জীবনের বড় কলঙ্ক মুছে গেছে। এরপর তিনি বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু পরদিনই হৃদরোগে তার মৃত্যু হয়।

তার পরিচিতজনরা জানান, বহু বছরের মানসিক চাপ ও মামলার বোঝা বহন করেও তিনি শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার পেয়েছিলেন—কিন্তু সেই স্বস্তির সময়টা আর দীর্ঘ হলো না।

error: Content is protected !!