শিশুর কাশি বা সর্দি দেখলেই অনেক অভিভাবক নেবুলাইজারের দিকে ঝুঁকছেন। তবে ভুল সময়ে বা অপ্রয়োজনে নেবুলাইজার ব্যবহার শিশুর উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করতে পারে।
❌ নেবুলাইজার নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা
• নেবুলাইজার কাশির স্থায়ী সমাধান নয়
নেবুলাইজার কোনো কাশির সিরাপ বা অ্যান্টিবায়োটিক নয়। এটি কেবল সংকুচিত শ্বাসনালী সাময়িকভাবে প্রসারিত করে শ্বাস নিতে সহায়তা করে।
• সর্দি হলেই নেবুলাইজার প্রয়োজন হয় না
শিশুর সর্দি যদি শুধু নাকে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে নরমাল স্যালাইন ড্রপ বা ‘নরসল’ যথেষ্ট।
• নেবুলাইজার ঘুমের ওষুধ নয়
শ্বাসকষ্ট না থাকলে অহেতুক নেবুলাইজার দিলে শিশুর হার্টরেট বেড়ে গিয়ে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
✅ কখন নেবুলাইজার সত্যিই প্রয়োজন
• শিশুর শ্বাসনালী সংকুচিত হলে (অ্যাজমা/হাঁপানি)
• শ্বাস নেওয়ার সময় বুক দেবে গেলে
• শ্বাসে ‘শাঁ শাঁ’ শব্দ শোনা গেলে
• ব্রঙ্কিওলাইটিস বা নিউমোনিয়ার মতো জটিলতায় শ্বাস নিতে কষ্ট হলে
⚠️ মা–বাবাদের জন্য বিশেষ সতর্কতা
• চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ ব্যবহার নয়
নরমাল স্যালাইন ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে ভেন্টোলিন বা স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে।
• পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করুন
প্রতিবার ব্যবহারের পর নেবুলাইজার মাস্ক ও পাইপ কুসুম গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন।
• সঠিকভাবে ব্যবহার করুন
মাস্কটি শিশুর মুখে ঠিকমতো বসাতে হবে, না হলে প্রয়োজনীয় ডোজ পৌঁছাবে না।
• অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
দিনে কতবার ও কতক্ষণ ব্যবহার করতে হবে—চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলুন।
বাচ্চার কাশি মানেই নেবুলাইজার নয়।
সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই পারে আপনার সোনামণিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখতে।